এশিয়ার তেলের বাজার সামলাচ্ছে চীন: আমদানিতে নজিরবিহীন হ্রাস

বেইজিং, ১০ আগস্ট – হরমুজ প্রণালি কার্যত অবরুদ্ধ হওয়ার ফলে মধ্যপ্রাচ্য থেকে অপরিশোধিত তেল সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এই বৈশ্বিক সংকট এবং সরবরাহ ঘাটতির মধ্যে এশিয়ার তেলের বাজারকে কার্যত একাই স্থিতিশীল রাখছে চীন। নিজেদের বিশাল মজুত ব্যবহার করে দেশটি আমদানি ব্যাপক হারে কমিয়ে দিয়েছে।
এর ফলে এশিয়ার তেলের সামগ্রিক চাহিদার ভারসাম্য রক্ষা করা সম্ভব হচ্ছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের ইরান সফরের পরবর্তী পরিস্থিতির পর মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল রপ্তানি প্রতিদিন প্রায় ৫০ লাখ ব্যারেল কমে যায়। এর ফলে বিশ্বের বৃহত্তম তেল আমদানিকারক অঞ্চল এশিয়াজুড়ে সংকট দেখা দেয়।
তবে চীন কৌশলগতভাবে তাদের তেল আমদানি কমিয়ে এনেছে। যুদ্ধ শুরুর আগের তিন মাসের গড়ে যেখানে চীনা আমদানির পরিমাণ ছিল দিনে ১ কোটি ১৯ লাখ ৯০ হাজার ব্যারেল, তা জুন ও জুলাই মাসের গড়ে মাত্র ৭৭ লাখ ৮০ হাজার ব্যারেলে নেমে আসে।
রয়টার্সের এক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এশিয়ায় তেলের সার্বিক আমদানি যে পরিমাণ কমেছে, তা মূলত চীনা আমদানির এই ঘাটতির সমতুল্য। বিশ্লেষকদের মতে, উচ্চমূল্যের কারণে চীন সাধারণত জ্বালানি তেল আমদানি কমিয়ে দেয়। গত এপ্রিলের শেষে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১২৬ ডলার ছাড়ানোর পর চীনা শোধনাগারগুলো আমদানি হ্রাসের সিদ্ধান্ত নেয়।
তবে এবারের এই হ্রাসের মাত্রা নজিরবিহীন। চীন দীর্ঘ সময় ধরে এই ধারা বজায় রাখতে পারবে বলে ধারণা করা হচ্ছে কারণ তাদের জাতীয় তেলের মজুত অন্তত ১২০ কোটি ব্যারেল বা তারও বেশি। আগস্ট মাসে হরমুজ প্রণালি দিয়ে সাময়িক যুদ্ধবিরতির সুযোগে কিছু তেল সরবরাহ হলেও সেপ্টেম্বরের পরিস্থিতি বেশ উদ্বেগজনক।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তেহরানের মধ্যকার সমঝোতা প্রচেষ্টা ব্যর্থ হওয়ায় অঞ্চলে উত্তেজনা পুনরায় বেড়েছে। ফলে মধ্যপ্রাচ্য থেকে সরবরাহ আবার কমে গেলে চীনা শোধনাগারগুলোকে তাদের জমানো রিজার্ভের ওপরই নির্ভর করতে হবে। অন্যথায় বিকল্প হিসেবে চড়া দামে অন্য কোনো বাজার থেকে তেল কেনার সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
এস এম/ ১০ আগস্ট ২০২৬









