মধ্যপ্রাচ্য

তুরস্ক, সৌদি আরব ও পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা জোট আরও সম্প্রসারণের উদ্যোগ

রিয়াদ, ১০ আগস্ট – সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের নবগঠিত প্রতিরক্ষা জোটের পরিধি আরও বিস্তৃত করতে চায় আঙ্কারা। তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ানের পরিকল্পনা অনুযায়ী এই জোটকে কেবল তিনটি দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে আরও দেশকে এর অন্তর্ভুক্ত করা হতে পারে।

সম্প্রতি তুরস্কের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আনাদোলু এজেন্সিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ফিদান বলেন, আমাদের প্রেসিডেন্টের দৃষ্টিভঙ্গি হলো আমরা যেন শুধু তিনটি দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকি। আমাদের এই জোটকে আরও বড় করতে হবে এবং প্রয়োজন হলে অন্যান্য দেশকেও এই ছাতার নিচে নিয়ে আসতে হবে।

গত শুক্রবার তুরস্ক, সৌদি আরব ও পাকিস্তান ‘মক্কা জয়েন্ট ডিটারেন্স অ্যাগ্রিমেন্ট’ বা মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করে। বিশ্লেষকদের মতে, এই চুক্তি মধ্যপ্রাচ্য ও বৃহত্তর মুসলিম বিশ্বের নিরাপত্তা কাঠামোয় এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে পারে।

তবে এই চুক্তিটি এখনই কোনও পূর্ণাঙ্গ সামরিক জোটে রূপ নিয়েছে কি না অথবা ভবিষ্যতে এতে কতটি দেশ যুক্ত হবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। সম্ভাব্য সম্প্রসারণ নিয়ে আলোচনায় সবার আগে উঠে এসেছে মিসরের নাম। পাশাপাশি কাতার, কুয়েত, আজারবাইজান, সিরিয়া ও জর্ডানের মতো দেশগুলোকেও সম্ভাব্য অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

নতুন এই প্রতিরক্ষা চুক্তিটি মূলত এক বছর আগে সৌদি আরব ও পাকিস্তানের মধ্যে হওয়া একটি প্রতিরক্ষা সমঝোতার উন্নত সংস্করণ। চুক্তির অন্যতম প্রধান দিক হলো তিন দেশের যে কোনো একটির ওপর বাইরের হামলাকে সবার ওপর হামলা হিসেবে গণ্য করা হবে।

তবে আক্রান্ত দেশকে ঠিক কী ধরনের সহায়তা দেওয়া হবে তার সুনির্দিষ্ট কাঠামো পরিস্থিতি অনুযায়ী নির্ধারণ করা হবে বলে জানা গেছে। তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান মিসরকে এই জোটের একটি স্বাভাবিক অংশীদার হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে কিছু কারিগরি বিষয় সমাধান হলে কায়রো আনুষ্ঠানিকভাবে জোটে যোগ দেবে।

বিশ্লেষকদের মতে, মিসর এই জোটে যুক্ত হলে এর রাজনৈতিক ও সামরিক গুরুত্ব বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক এবং বিদ্যমান আন্তর্জাতিক চুক্তির কথা মাথায় রেখে কায়রো এই বিষয়ে কিছুটা সতর্কতা অবলম্বন করতে পারে।

উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে কাতার ও কুয়েতের জোটে যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। কাতারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হামাদ বিন জাসিম আল থানি জিসিসির সব সদস্যকে এই চুক্তিতে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই জোট ন্যাটোর মতো কঠোর কোনও কাঠামো না হয়ে শুরুতে একটি নমনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা হিসেবে কাজ করতে পারে।

এস এম/ ১০ আগস্ট ২০২৬


Back to top button