বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি

বিরল সূর্যগ্রহণের সাক্ষী হতে যাচ্ছে বিশ্ব: ইউরোপ ও আমেরিকায় দেখা যাবে পূর্ণগ্রাস

লন্ডন, ১০ আগস্ট – ১২ আগস্ট বুধবার এক বিরল মহাজাগতিক দৃশ্যের সাক্ষী হতে যাচ্ছে বিশ্ব। ইউরোপ, উত্তর আমেরিকা এবং উত্তর আফ্রিকার বিস্তীর্ণ অঞ্চল থেকে এদিন একটি দৃষ্টিনন্দন সূর্যগ্রহণ প্রত্যক্ষ করা যাবে। পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে ভৌগোলিক অবস্থানের ওপর ভিত্তি করে এই গ্রহণের দৃশ্যমানতায় বড় ধরনের ভিন্নতা থাকবে।

প্রায় ১৮০ মাইল বা ২৯০ কিলোমিটার প্রশস্ত একটি নির্দিষ্ট পথের বাসিন্দারা পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ দেখার সুযোগ পাবেন। এই সময় চাঁদ সূর্যকে পুরোপুরি ঢেকে দেবে এবং এই অবস্থা সর্বোচ্চ ২ মিনিট ১৮ সেকেন্ড পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। অন্যদিকে ইউরোপের সিংহভাগ এলাকায় গভীর আংশিক গ্রহণ এবং উত্তর আমেরিকায় তুলনামূলক কম মাত্রার আংশিক সূর্যগ্রহণ দেখা যাবে।

পূর্ণগ্রাসের মূল পথটি পূর্ব গ্রিনল্যান্ড, পশ্চিম আইসল্যান্ড এবং উত্তর পূর্ব স্পেনের ওপর দিয়ে বিস্তৃত হয়েছে। এই অঞ্চলে অবস্থানকারীরা দিনের বেলাতেই গোধূলির মতো অন্ধকার নেমে আসতে দেখবেন। আকাশে ফুটে উঠবে উজ্জ্বল তারা ও গ্রহ এবং খালি চোখে দৃশ্যমান হবে সূর্যের বাইরের বায়ুমণ্ডল বা করোনা।

গ্রিনল্যান্ডের স্কোরসবি সুন্দ স্থানীয় সময় বিকেল ৪টা ৩৫ মিনিটে পূর্ণগ্রাস শুরু হবে। আইসল্যান্ডের রিকিয়াভিকে বিকেল ৫টা ৪৮ মিনিটে এবং স্পেনের লিওন, সোরিয়া ও মলরকার এস আরেনাল অঞ্চলে রাত ৮টা ২৮ মিনিট থেকে ৮টা ৩১ মিনিটের মধ্যে সর্বোচ্চ পূর্ণগ্রাস দেখা যাবে।

উত্তর আমেরিকাবাসীর জন্য এটি মূলত একটি আংশিক গ্রহণের অভিজ্ঞতা হবে। কানাডার উত্তরাঞ্চল ও পূর্বাঞ্চল, আলাস্কা এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে আংশিক গ্রহণের মাত্রা বেশি থাকবে। বস্টন, কুইবেক সিটি, মন্ট্রিল ও নিউ ইয়র্কে ৯ থেকে ২৪ শতাংশ পর্যন্ত আংশিক গ্রহণ দৃশ্যমান হতে পারে।

ইউরোপের বেশিরভাগ দেশ এবং উত্তর-পশ্চিম আফ্রিকার বাসিন্দারা এক বিশাল আংশিক সূর্যগ্রহণের সাক্ষী হবেন। স্পেনের মাদ্রিদ ও বার্সেলোনায় সূর্য প্রায় ৯৯.৯ শতাংশ পর্যন্ত ঢাকা পড়বে। জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা সতর্ক করে জানিয়েছেন যে, আংশিক গ্রহণের সময় কোনো অবস্থাতেই খালি চোখে বা সাধারণ রোদচশমা পরে সূর্যের দিকে তাকানো যাবে না।

কেবল পূর্ণগ্রাসের সুনির্দিষ্ট মুহূর্তটিতেই সূর্য দেখার নিরাপদ সুযোগ থাকে। আংশিক পর্যায় পর্যবেক্ষণের জন্য প্রত্যয়িত সোলার ফিল্টার বা গ্রহণ দেখার বিশেষ চশমা ব্যবহার করা বাধ্যতামূলক। যারা সরাসরি এটি দেখতে পারবেন না, তারা নাসা ও ইউরোপীয় স্পেস এজেন্সির অফিশিয়াল সরাসরি সম্প্রচারের মাধ্যমে এই বিরল দৃশ্য উপভোগ করতে পারবেন।

এস এম/ ১০ আগস্ট ২০২৬


Back to top button