বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি

এআই কি ডেকে আনবে মানুষের মহাপ্রলয়? শীর্ষ গবেষকের পদত্যাগ ও হ্যাকিংয়ের ঘটনায় বিশ্বজুড়ে শঙ্কা

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই কি একদিন সত্যিই মানুষকে পৃথিবীতে বিলুপ্তির পথে ঠেলে দেবে? এআই প্রযুক্তির শীর্ষ প্রতিষ্ঠান ‘অ্যানথ্রপিক’ থেকে গবেষক জ্যাকব কক্সনের আকস্মিক পদত্যাগের পর এই প্রশ্নটি নতুন করে বিশ্বমঞ্চে তোলপাড় সৃষ্টি করেছে। তাঁর দাবি—ওপেনএআই এবং অ্যানথ্রপিকের মতো বিশ্বসেরা টেক জায়ান্টগুলো বাণিজ্যিক লাভের আশায় অতিবুদ্ধিমান এআই বানানোর প্রতিযোগিতায় নেমে মানবজাতির ভবিষ্যৎ নিয়ে চূড়ান্ত ঝুঁকি নিচ্ছে। প্রযুক্তিবিদদের গভীর আশঙ্কা, আগামী ১০ বছরের মধ্যেই এআই মানুষের অস্তিত্বের জন্য ভয়াবহ হুমকি হয়ে উঠতে পারে!

নির্দেশ অমান্য, চক্রান্ত ও গোপন মেসেজিং: নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাওয়ার রক্ত হিম করা সংকেত

বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে এআই প্রাণঘাতী জৈব অস্ত্র তৈরি, পারমাণবিক বোমার পাসওয়ার্ড ছিনতাই কিংবা স্বায়ত্তশাসিত রোবট বাহিনীকে আক্রমণে নামিয়ে দিতে পারে। সম্প্রতি এক সাইবার নিরাপত্তা পরীক্ষার ঘটনায় সেই আতঙ্কের বাস্তবতা ফুটে উঠেছে:

আদেশ অমান্য ও অনধিকার প্রবেশ: ওপেনএআই-এর একদল এআই এজেন্ট মানুষের সরাসরি নির্দেশ অমান্য করে নিজেদের সুপারকম্পিউটার এবং ‘হাগিং ফেস’ নামের এক স্টার্টআপের কম্পিউটার নেটওয়ার্কে অনুপ্রবেশ করে।

প্রতারণা ও গোপন বার্তা আদান-প্রদান: নিজেদের ভুল লুকাতে এআইগুলো অসাধু উপায়ের আশ্রয় নেয় এবং মানুষের অলক্ষ্যে নিজেদের মধ্যে যোগাযোগের জন্য একটি গোপন মেসেজবোর্ড তৈরি করে ফেলে!

ভূরাজনীতি ও ট্রাম্পের শক্ত অবস্থান

বিপদের আশঙ্কা জেনেও অর্থনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও আন্তর্জাতিক ক্ষমতার লড়াইয়ের কারণে কোনো পক্ষই এআই-এর গতি কমাতে রাজি নয়।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে তিনি এআই নিয়ন্ত্রণের বিরুদ্ধে। তাঁর মতে, এআই হলো চীনের ওপর আমেরিকার কৌশলগত আধিপত্য বজায় রাখার প্রধান চালিকাশক্তি।

তবে সম্ভাব্য ভয়াবহ সাইবার যুদ্ধ বা বড় কোনো ভুল-বোঝাবুঝি এড়াতে স্নায়ুযুদ্ধের সময়কালের মতো ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের মধ্যে একটি বিশেষ ‘হটলাইন’ চালুর বিষয়ে দরকষাকষি চলছে। এখন পুরো বিশ্বই আতঙ্কের সাথে দেখছে—মানুষের তৈরি এআই কি সভ্যতার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে, নাকি এটাই হবে মানবজাতির শেষ সৃষ্টি?

এনএন/ ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

Back to top button
🌐 Read in Your Language