আমেরিকার ৭ প্রতিষ্ঠানের ওপর চীনের পাল্টা নিষেধাজ্ঞা

বেইজিং, ৬ আগস্ট – যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত শুল্ক ও নিষেধাজ্ঞার পাল্টা জবাবে সাতটি মার্কিন প্রতিষ্ঠানের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে চীন। বেইজিংয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, এখন থেকে চীনের কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান তালিকাভুক্ত এই মার্কিন ফার্মগুলোর সাথে ব্যবসায়িক লেনদেন বা কোনো ধরনের সহযোগিতা করতে পারবে না।
আগামী মাসে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সম্ভাব্য যুক্তরাষ্ট্র সফরের আগে দুই দেশের এই বাণিজ্য যুদ্ধ সম্পর্ককে আরও উত্তপ্ত করে তুলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক পদক্ষেপের বিরুদ্ধে এটি একটি প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা।
নিষেধাজ্ঞার তালিকায় একটি বায়োটেক এবং একটি রিসোর্স অ্যানালিটিক্স ফার্মসহ একাধিক মার্কিন প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এর পাশাপাশি ড্রোন এবং এর যন্ত্রাংশ ও প্রযুক্তি রপ্তানির ওপরও কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছে চীন। সম্প্রতি উইঘুরসহ সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর ওপর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে চীনের ৪৩টি কোম্পানির ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল ওয়াশিংটন।
এর প্রতিবাদেই ছয়টি মার্কিন কোম্পানিকে এই তালিকায় যুক্ত করেছে বেইজিং। এছাড়া সপ্তম কোম্পানিটির ওপর নিষেধাজ্ঞা এসেছে মার্কিন ফেডারেল কমিউনিকেশনস কমিশনের একটি সিদ্ধান্তের প্রতিক্রিয়ায়। জাতীয় নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে সংস্থাটি চীন থেকে বিশেষ ধরনের মানবিক রোবট আমদানি নিষিদ্ধ করেছিল।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র বলেছেন যে, চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোকে লক্ষ্য করে নেওয়া মার্কিন পদক্ষেপের বিপরীতে বেইজিংয়ের সামনে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া ছাড়া আর কোনো উপায় ছিল না। তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে এসব ভুল পদক্ষেপ দ্রুত প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়ে সতর্ক করেন যে, আরও বিধিনিষেধ এলে চীন আরও কঠিন অবস্থান নেবে।
এদিকে ট্রাম্প প্রশাসন গত কয়েক সপ্তাহে ইরানি জ্বালানি বহনের অভিযোগে চীনা শিপিং অপারেটরদের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে এবং পেন্টাগনের কালো তালিকায় চীনের দুটি শীর্ষস্থানীয় বেসামরিক বিশ্ববিদ্যালয়কে অন্তর্ভুক্ত করেছে। এ ছাড়া জোরপূর্বক শ্রমের অভিযোগে চীন থেকে আমদানিকৃত পণ্যের ওপর শুল্কও বাড়ানো হয়েছে। পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন যে, দুই দেশের এই পাল্টাপাল্টি পদক্ষেপ মূলত বৈশ্বিক আধিপত্য বজায় রাখার একটি অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত যুদ্ধ।
এস এম/ ৬ আগস্ট ২০২৬









