বিষাক্ত ইনজেকশনের ২ ডোজের পরও অলৌকিক বেঁচে ফেরা! যুক্তরাষ্ট্রে বিষপ্রয়োগের ৪০ মিনিট পরও নাক ডাকছিলেন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত নারী

ওয়াশিংটন, ০১ অক্টোবর – যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসিতে বিষাক্ত ইনজেকশন কার্যকর করার সময় ঘটে গেল এক অভাবনীয় ও নজিরবিহীন ঘটনা। নির্ধারিত দুই দফা শক্তিশালী বিষাক্ত রাসায়নিক ইনজেকশন প্রয়োগের পরও মৃত্যু হয়নি ৫০ বছর বয়সী মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত কয়েদি ক্রিস্টা পাইকের। ইনজেকশনের ৪০ মিনিট পর পর্যন্তও তাকে স্পষ্ট নাক ডাকতে শুনেছেন সেখানে উপস্থিত প্রত্যক্ষদর্শীরা। পরবর্তীতে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে কারাগারের বাইরের একটি হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়।
এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই আমেরিকার বিচার ব্যবস্থা ও মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের কৌশল নিয়ে সৃষ্টি হয়েছে তীব্র বিতর্ক ও তোলপাড়।
মৃত্যুদণ্ড কক্ষে কী ঘটেছিল? প্রত্যক্ষদর্শী সাংবাদিকদের বর্ণনা
স্থানীয় সময় বুধবার সকাল ১০টায় টেনেসির কারাগারে ক্রিস্টা পাইকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার কথা ছিল। এটি সফল হলে গত ২০০ বছরের মধ্যে টেনেসিতে কোনো নারীর প্রথম মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হতো।
মৃত্যুদণ্ড পর্যবেক্ষণ কক্ষে উপস্থিত সাতজন সাংবাদিক এবং অনুসন্ধানী সাংবাদিক জন নর্থ জানান:
বিষাক্ত কেমিক্যাল ‘পেন্টোবারবিটাল’ (Pentobarbital)-এর দুটি শক্তিশালী ডোজ প্রয়োগের পরও ক্রিস্টা স্পষ্টতই বেঁচে ছিলেন।
ইনজেকশন দেওয়ার ৪০ মিনিট পর মৃত্যুদণ্ড কক্ষে তাঁর উচ্চশব্দে নাক ডাকার শব্দ শোনা যাচ্ছিল।
পুরো প্রক্রিয়াটি স্বাভাবিক নিয়মে সম্পন্ন না হওয়ায় তড়িঘড়ি করে সাংবাদিকদের পর্যবেক্ষণ কক্ষ থেকে বের করে দেয় কারা কর্তৃপক্ষ।
“আমরা যখন কক্ষটি থেকে বের হয়ে আসি, তখনও ক্রিস্টা বেঁচে ছিলেন। পুরো প্রক্রিয়াটি যেভাবে হওয়ার কথা ছিল, সেভাবে একেবারেই হয়নি।” — জন নর্থ, অনুসন্ধানী সাংবাদিক (ঘটনাস্থলে উপস্থিত প্রত্যক্ষদর্শী)।
আইনি লড়াই: সুপ্রিম কোর্টের সবুজ সংকেত ও মানবাধিকার লঙ্ঘন
এই মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা নিয়ে ঘটনার দিন সকাল থেকেই নাটকীয় মোড় দেখা যায়:
১. জরুরি আপিল আদালতের স্থগিতাদেশ: নির্ধারিত সময়ের মাত্র এক ঘণ্টা আগে ক্রিস্টার শৈশবের যৌন নির্যাতনের বিষয়টি সাজা নির্ধারণে সঠিকভাবে বিবেচনা করা হয়েছে কি না—তা খতিয়ে দেখতে ২-১ ব্যবধানে মৃত্যুদণ্ড স্থগিত করে আপিল আদালত।
২. সুপ্রিম কোর্টের তড়িঘড়ি বাতিল: কিন্তু টেনেসির অ্যাটর্নি জেনারেলের আবেদনের প্রেক্ষিতে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট সেই স্থগিতাদেশ বাতিল করে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের অনুমতি দেন।
৩. নতুন বিতর্ক ও সাংবিধানিক প্রশ্ন: সফল না হওয়া এই মৃত্যুদণ্ডকে ‘সাংবিধানিক অধিকারের মারাত্মক লঙ্ঘন’ ও ‘নিষ্ঠুর শাস্তি’ হিসেবে অভিহিত করেছেন ক্রিস্টার আইনজীবীরা। বিষাক্ত রাসায়নিকের কারণে চরম শারীরিক যন্ত্রণার মধ্য দিয়ে যাওয়া ক্রিস্টার মৃত্যুদণ্ড স্থগিত করতে আবারও মার্কিন সুপ্রিম কোর্টে জরুরি আবেদন জানানো হয়েছে।
তবে টেনিসি ডিপার্টমেন্ট অব কারেকশন এক বিবৃতিতে দাবি করেছে, তাদের ব্যবহৃত বিষাক্ত রাসায়নিক অত্যন্ত কার্যকর এবং নির্ধারিত প্রোটোকলের বাইরে বাড়তি কোনো ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ তাদের নেই।
কিলার টু কয়েদি: ১৯৯৫ সালের সেই নৃশংস হত্যাকাণ্ড
১৯৯৫ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি করেছিল ‘কলিন স্লেমোর’ হত্যা মামলা।
যেভাবে অপরাধ: নক্সভিল জব কর্পসে পড়ার সময় মাত্র ১৮ বছর বয়সী ক্রিস্টা পাইক তাঁর ১৭ বছর বয়সী প্রেমিককে সঙ্গে নিয়ে সহপাঠী কলিন স্লেমোরকে অত্যন্ত নির্মমভাবে হত্যা করেন।
দীর্ঘ ৩০ বছরের সাজা: সেই নৃশংস অপরাধের দায়ে দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে কারাগারের অন্ধকার প্রকোষ্ঠে রয়েছেন ক্রিস্টা, যার বর্তমান বয়স ৫০ বছর।
ইনজেকশন ব্যর্থ হওয়ায় রাষ্ট্র একজন আসামিকে প্রথাগত নিয়মের বাইরে কতটা যন্ত্রণার মুখে ঠেলে দিতে পারে—তা নিয়ে সরব হয়েছেন মানবাধিকার কর্মীরা। বিষাক্ত রাসায়নিকের মারাত্মক যন্ত্রণা সহ্য করে হাসপাতালে লড়াই করা ক্রিস্টা পাইকের ভাগ্য শেষ পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্টের আইনি রায়ে কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেটাই দেখার বিষয়।
এনএন/ ০১ অক্টোবর ২০২৬







