মার্কিন ও দক্ষিণ কোরিয়া মহড়ার প্রতিবাদে উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ

পিয়ংইয়ং, ১২ আগস্ট – যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার আসন্ন যৌথ সামরিক মহড়াকে কেন্দ্র করে আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে কোরীয় উপদ্বীপ। এই মহড়াকে নিজেদের ভূখণ্ডে আক্রমণের প্রস্তুতি হিসেবে অভিহিত করে সাগরের দিকে নতুন একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে উত্তর কোরিয়া।
এক সপ্তাহের কম সময়ের মধ্যে এটি পিয়ংইয়ংয়ের দ্বিতীয় ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা। বুধবার ভোর ৬টার দিকে উত্তর কোরিয়ার পূর্ব উপকূলীয় ওনসান অঞ্চল থেকে এই ক্ষেপণাস্ত্রটি উৎক্ষেপণ করা হয়। এটি প্রায় ৭০০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে সাগরে গিয়ে পড়ে।
জাপানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী ক্ষেপণাস্ত্রটি জাপানের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের বাইরে পড়েছে। এই ঘটনার পর দক্ষিণ কোরিয়ার জয়েন্ট চিফস অব স্টাফ এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমন্বিতভাবে তারা উত্তর কোরিয়ার যেকোনো ধরনের উসকানি মোকাবিলায় প্রস্তুত রয়েছে।
দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ একে জাতিসংঘের প্রস্তাবের লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করে অবিলম্বে এ ধরনের উসকানিমূলক কার্যক্রম বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে। আগামী ১৭ আগস্ট থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার বার্ষিক সামরিক মহড়া উলচি ফ্রিডম শিল্ড শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
সিউল ও ওয়াশিংটন এই মহড়াকে আত্মরক্ষামূলক বললেও কিম জং উন একে যুদ্ধের উসকানি বলে মনে করছেন। পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে মহড়া শুরুর ঘোষণার মাত্র দুই দিনের মাথায় এই ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালাল পিয়ংইয়ং। এর আগে গত ৬ আগস্ট আরও একটি স্বল্পপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা করেছিল দেশটি।
বিশ্লেষকদের মতে ২০১৯ সালে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর থেকেই আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে চাপ দিতে নিজেদের সমরাস্ত্রের শক্তি বাড়িয়ে চলেছে উত্তর কোরিয়া। সম্প্রতি রাশিয়ার সঙ্গে সামরিক সহযোগিতা এবং দীর্ঘ সাত বছর পর চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের পিয়ংইয়ং সফরের মাধ্যমে নিজেদের আঞ্চলিক মিত্রদের সঙ্গে সম্পর্ক আরও শক্ত করার চেষ্টা করছে দেশটি।
এস এম/ ১২ আগস্ট ২০২৬









