এশিয়া

মানুষের আয়ু হবে ২৫০ বছর: জাপানি বিজ্ঞানীদের চমকপ্রদ উদ্ভাবন

টোকিও, ২৮ জুন – মানুষের বয়স বাড়ার গতি কমিয়ে দেওয়া এবং আয়ু ২৫০ বছর পর্যন্ত নিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা সম্পন্ন এক বিশেষ ওষুধ আবিষ্কারের দাবি করেছেন জাপানের একদল বিজ্ঞানী। এই উদ্ভাবনের খবর প্রকাশের পর বৈজ্ঞানিক মহলে যেমন কৌতূহল সৃষ্টি হয়েছে তেমনি বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন বিতর্ক ও ধোঁয়াশাও তৈরি হয়েছে।

কেউ কেউ মনে করছেন এটি মানব সভ্যতার ইতিহাসে এক বড় অর্জন হতে পারে। আবার সমালোচকদের মতে এটি প্রকৃতির নিয়মের পরিপন্থী একটি বিপজ্জনক খেলা। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম জাপান টাইমস এর প্রতিবেদন অনুযায়ী টোকিও ইউনিভার্সিটি ও কিয়োটো বায়োসায়েন্স ইনস্টিটিউটের যৌথ গবেষণায় এনআরএক্স ৫১ নামের এই বিশেষ ওষুধটি উদ্ভাবন করা হয়েছে।

বিজ্ঞানীদের দাবি এই ওষুধটি মূলত কোষের ভেতরে থাকা মাইটোকন্ড্রিয়ার বয়স বাড়ার প্রক্রিয়াকে ধীর করে দেয়। সাধারণত বয়স বাড়ার সাথে সাথে মানবদেহের কোষে শক্তি উৎপাদনের হার কমে যায়। সায়েন্স অ্যালার্ট এর একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে এনআরএক্স ৫১ মূলত মানবদেহে উপস্থিত এসআইআরটি ৬ নামের এক বিশেষ প্রোটিনের কার্যকারিতা বাড়িয়ে দেয় যা কোষের ডিএনএ মেরামত এবং কোষ বিভাজন নিয়ন্ত্রণে কাজ করে।

গবেষকদের মতে এই ওষুধ জিনের পরিবর্তন করে না বরং দেহের প্রাকৃতিক প্রক্রিয়াকেই দীর্ঘায়িত করে। এর ফলে বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন রোগ যেমন পারকিনসন্স বা হৃদরোগের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যেতে পারে। তবে বিজ্ঞানীদের এই আকাশচুম্বী দাবি নিয়ে বিশেষজ্ঞরা এখনই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারছেন না।

বিবিসি ফিউচার এর এক বিশ্লেষণে সতর্ক করা হয়েছে যে মানুষের আয়ু ২৫০ বছর হলে পৃথিবীর সামাজিক ও অর্থনৈতিক ভারসাম্য ভেঙে পড়তে পারে। অস্বাভাবিক জনসংখ্যা বৃদ্ধি এবং খাদ্য সংকটের পাশাপাশি ধনী ও দরিদ্রের বৈষম্য আকাশচুম্বী হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাছাড়া ওষুধটির সহজলভ্যতা নিয়েও বড় প্রশ্ন রয়ে গেছে।

গবেষকদের ধারণা এটি বাজারে আসলে প্রাথমিকভাবে একটি কোর্সের দাম হতে পারে প্রায় ২ থেকে ৩ লাখ মার্কিন ডলার। ফলে এটি কেবল অতি ধনী শ্রেণির নাগালে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে যা সমাজে নতুন বৈষম্য তৈরি করতে পারে। বিজ্ঞানীদের একাংশ বার্ধক্যের কষ্ট কমানোর বিষয়ে আশাবাদী হলেও এই উদ্ভাবন শেষ পর্যন্ত কতটা কার্যকর হবে তা নিয়ে সংশয় এখনো কাটেনি।

এস এম/ ২৮ জুন ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language