ঢাবি শিক্ষার্থীকে আটকে রেখে নির্যাতনের অভিযোগ, প্রাধ্যক্ষের পদত্যাগ দাবি

ঢাকা, ১৭ আগস্ট – ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক মুসলিম হলের প্রাধ্যক্ষের বিরুদ্ধে এক শিক্ষার্থীকে মানসিক নির্যাতন ও ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগ উঠেছে। ফেসবুকে প্রাধ্যক্ষের সমালোচনা করে পোস্ট দেওয়ায় ওই শিক্ষার্থীকে তার কক্ষে ডেকে নিয়ে ফোন কেড়ে নেওয়া হয় বলে জানা গেছে।
এই ঘটনার প্রতিবাদে রোববার রাতে প্রাধ্যক্ষের কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ করেছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর নাম মো. ইব্রাহীম। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের রোবটিক্স অ্যান্ড মেকাট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২০২০ থেকে ২০২১ শিক্ষাবর্ষের ছাত্র।
ইব্রাহীম জানান যে তিনি একটি ফেসবুক গ্রুপে প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ইলিয়াস আল মামুনের কিছু সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে পোস্ট দিয়েছিলেন। এর জের ধরে তাকে প্রাধ্যক্ষ তার কক্ষে ডেকে পাঠান। সেখানে তাকে প্রায় দেড় ঘণ্টা আটকে রেখে সিট বাতিল এবং ছাত্রত্ব বাতিলের হুমকি দেওয়া হয় বলে তার অভিযোগ।
ইব্রাহীম আরও দাবি করেন যে তার ফোনটি জোরপূর্বক নিয়ে নেওয়া হয়েছিল এবং তাকে একটি লিখিত বিবৃতিতে স্বাক্ষর করতে বাধ্য করা হয়। ওই বিবৃতিতে হল সংসদের নেতাদের প্ররোচনায় তিনি পোস্টটি দিয়েছেন এমন কথা উল্লেখ ছিল।
ইব্রাহীমের কান্নাকাটি এবং পরিস্থিতির অবনতি দেখে একপর্যায়ে তাকে কক্ষ থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়। এই সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে হলের অন্যান্য শিক্ষার্থীরা সেখানে জড়ো হয়ে প্রাধ্যক্ষের পদত্যাগের দাবিতে স্লোগান দিতে থাকেন।
অভিযোগের বিষয়ে প্রাধ্যক্ষ ইলিয়াস আল মামুন জানান যে ওই শিক্ষার্থী তার বিরুদ্ধে অসত্য তথ্য ছড়িয়েছেন। বিষয়টি পরিষ্কার করার জন্যই তাকে ডাকা হয়েছিল। কথোপকথন রেকর্ড করার চেষ্টা করায় তার ফোনটি সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল বলে তিনি দাবি করেন। কোনো ধরণের নির্যাতন বা জোর করে স্বাক্ষর নেওয়ার বিষয়টি তিনি অস্বীকার করেছেন। ঘটনাস্থলে হলের অন্যান্য কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন বলেও জানান তিনি।
এনএন/ ১৭ আগস্ট ২০২৬







