উত্তর আমেরিকা

ইসরায়েল-লেবানন যুদ্ধবিরতির ১৪ দফার পূর্ণাঙ্গ পাঠ প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্র

ওয়াশিংটন, ২৭ জুন – ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে চলমান উত্তেজনা নিরসন এবং সীমান্তে শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ১৪ দফার একটি কাঠামোগত চুক্তির পূর্ণাঙ্গ পাঠ প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দফতর। এই চুক্তির মূল উদ্দেশ্য হলো দুই দেশের সীমান্ত অঞ্চলে সংঘাত কমিয়ে লেবাননের রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্ব পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা এবং সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে তোলা।

প্রকাশিত দলিলের দ্বিতীয় দফায় উল্লেখ করা হয়েছে যে, ইসরায়েল ও লেবানন সরকার একটি পারস্পরিক এবং ধাপে ধাপে বাস্তবায়নযোগ্য প্রক্রিয়ার বিষয়ে একমত হয়েছে। এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে লেবাননের সশস্ত্র বাহিনী বা লেবানিজ আর্মি দেশের পুরো ভূখণ্ডে কার্যকর রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্ব ও কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করবে।

চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকা সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর নিরস্ত্রীকরণ এবং তাদের সামরিক অবকাঠামো সম্পূর্ণভাবে ভেঙে ফেলার বিষয়টি আন্তর্জাতিকভাবে পর্যবেক্ষণ ও যাচাই করা হবে। এই পদক্ষেপগুলো সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার পরই ইসরায়েলি সেনাবাহিনী ধাপে ধাপে লেবাননের ভূখণ্ড থেকে তাদের সেনা প্রত্যাহার করবে।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দফতর জানিয়েছে, এই ১৪ দফার কাঠামোর লক্ষ্য হলো দীর্ঘদিনের সংঘাতের অবসান ঘটিয়ে লেবাননের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর নিয়ন্ত্রণ শক্তিশালী করা। উভয় দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একটি সমন্বিত ও শক্তিশালী ব্যবস্থা গড়ে তোলাই এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য।

যদিও চুক্তির বাকি ধারাগুলোর বিস্তারিত তাৎক্ষণিকভাবে তুলে ধরা হয়নি, তবে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে খুব শিগগিরই পর্যায়ক্রমে বাকি তথ্যগুলোও জনসমক্ষে আনা হবে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই কাঠামো বাস্তবায়িত হলে লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে রাষ্ট্রীয় বাহিনীর নিয়ন্ত্রণ বাড়বে এবং সীমান্তে সামরিক উত্তেজনা কমে আসবে। তবে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর নিরস্ত্রীকরণ ও অবকাঠামো অপসারণের বিষয়টি বাস্তবে প্রয়োগ করাই হবে এই চুক্তির সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

এস এম/ ২৭ জুন ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language