ইউরোপে তীব্র তাপপ্রবাহে এশিয়ার এসির বাজারে ব্যাপক উল্লম্ফন

লন্ডন, ২৭ জুন – ইউরোপের বিভিন্ন দেশে রেকর্ড ভাঙা তাপপ্রবাহের প্রভাবে এশিয়ার শীর্ষস্থানীয় শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র বা এসি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর বিক্রি কয়েক গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ার স্যামসাং ও এলজি ইলেকট্রনিকস, চীনের মিডিয়া এবং জাপানের মিতসুবিশি ইলেকট্রিকের মতো বড় কোম্পানিগুলো ইউরোপীয় বাজারে চাহিদার এক বড় উল্লম্ফন লক্ষ্য করছে।
ঐতিহ্যগতভাবে ইউরোপের অধিকাংশ দেশেই এসির ব্যবহার বেশ সীমিত ছিল। তবে সম্প্রতি নজিরবিহীন তাপমাত্রার কারণে জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে। তাপপ্রবাহে মৃত্যুর পাশাপাশি বিদ্যুৎ বিভ্রাট এবং অনেক স্থানে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের খবর পাওয়া যাচ্ছে।
এমন পরিস্থিতিতে তীব্র গরম থেকে বাঁচতে ব্যক্তিগত ও ব্যবসায়িক উভয় পর্যায়েই এসির চাহিদা ব্যাপক হারে বাড়ছে। স্যামসাং ইলেকট্রনিকসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, চলতি বছরের প্রথমার্ধে ইতালি, স্পেন ও ফ্রান্সে তাদের এসির বিক্রি দুই অঙ্কের ঘরে পৌঁছেছে।
সামনের দিনগুলোতে তাপমাত্রা আরও বাড়ার আশঙ্কায় এই চাহিদা অব্যাহত থাকবে বলে মনে করছে প্রতিষ্ঠানটি। অন্যদিকে এলজি ইলেকট্রনিকস জানিয়েছে, অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক বাজারের চাহিদা মেটাতে দক্ষিণ কোরিয়ায় তাদের কারখানাগুলো এপ্রিল থেকেই পূর্ণ সক্ষমতায় কাজ করছে।
চীনের মিডিয়া কোম্পানি জানিয়েছে, তাদের বহনযোগ্য বা পোর্টেবল এসির চাহিদা আকাশচুম্বী। পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়েছে যে, কিছু ক্ষেত্রে ব্যবহৃত এসির দামও নতুনের চেয়ে বেশি হয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে জার্মানি, ফ্রান্স ও স্পেনে এসি সরবরাহের হার উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বেড়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে ইউরোপের আবহাওয়া বদলে যাচ্ছে। এক সময় এসিকে বিলাসী পণ্য ভাবা হলেও এখন তা প্রয়োজনীয় অনুষঙ্গে পরিণত হচ্ছে। তবে ইউরোপের পুরনো ভবনগুলোতে এসি স্থাপন করা যেমন ব্যয়বহুল, তেমনি সময়সাপেক্ষ।
আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ইউরোপের মাত্র ২০ শতাংশ পরিবারে এসি রয়েছে। বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা সতর্ক করেছে যে, ইউরোপ বিশ্বের গড় হারের চেয়ে দ্বিগুণ দ্রুত গতিতে উত্তপ্ত হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে এসির চাহিদাকে আরও বাড়িয়ে তুলবে।
এস এম/ ২৭ জুন ২০২৬









