ফ্রান্সে প্রথমবারের মতো ইবোলা রোগী শনাক্ত, স্থিতিশীল অবস্থায় রয়েছেন আক্রান্ত চিকিৎসক

প্যারিস, ২৫ জুন – ফ্রান্সে প্রথমবারের মতো ইবোলা ভাইরাসে আক্রান্ত একজন রোগীকে শনাক্ত করা হয়েছে। আক্রান্ত ব্যক্তি পেশায় একজন চিকিৎসক এবং তিনি সম্প্রতি গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রে একটি মানবিক সহায়তা মিশন শেষ করে দেশে ফিরেছেন।
ফ্রান্সের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বুধবার জানিয়েছে যে ওই রোগীকে তাৎক্ষণিকভাবে একটি বিশেষায়িত চিকিৎসা কেন্দ্রে আইসোলেশনে রাখা হয়েছে। বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে। কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যে আক্রান্ত চিকিৎসকের সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের খুঁজে বের করে পর্যবেক্ষণের আওতায় আনার কাজ শুরু করেছে।
ফরাসি স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের মতে সাধারণ জনগণের মধ্যে এই সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি অত্যন্ত কম। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে তারা নিরবচ্ছিন্ন নজরদারি চালিয়ে যাচ্ছেন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান তেদ্রোস আধানম গ্রেব্রিয়াসুস এ বিষয়ে মন্তব্য করে বলেন যে বাকি বিশ্বের জন্যও ঝুঁকির মাত্রা খুবই সামান্য এবং বর্তমানে আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই।
গত মাসে মধ্য আফ্রিকার দেশ কঙ্গোতে ইবোলা প্রাদুর্ভাবের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন এর কয়েক সপ্তাহ আগে থেকেই ভাইরাসটি সেখানে বিস্তার লাভ করছিল। কঙ্গোতে ইতিমধ্যে এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ২৬০ জনেরও বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন এবং মোট আক্রান্তের সংখ্যা এক হাজার ছাড়িয়ে গেছে।
আফ্রিকার বাইরে ইউরোপের মাটিতে ইবোলা শনাক্ত হওয়ার ঘটনা এটিই প্রথম। এর আগে অবশ্য কঙ্গোতে আক্রান্ত হওয়া এক মার্কিন চিকিৎসককে চিকিৎসার জন্য জার্মানিতে নেওয়া হয়েছিল। কঙ্গোর পার্শ্ববর্তী দেশ উগান্ডাতেও ইবোলার প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে যেখানে ২০ জন আক্রান্তের খবর পাওয়া গেছে।
ইবোলা সংক্রমণের ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যকর্মীরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মুখে থাকেন। কঙ্গোর পরিসংখ্যান অনুযায়ী সেখানে আক্রান্ত ৭৫ জন স্বাস্থ্যকর্মীর মধ্যে ১৭ জন মৃত্যুবরণ করেছেন। বর্তমানে সংক্রমণের জন্য দায়ী বান্ডিবুগিও নামক ভাইরাসের ধরনটি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা।
কারণ এই নির্দিষ্ট ধরনের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত কোনো অনুমোদিত টিকা বা সুনির্দিষ্ট চিকিৎসা পদ্ধতি উদ্ভাবিত হয়নি। সংক্রমণ প্রতিরোধে ফ্রান্স কঙ্গো থেকে আসা ত্রাণকর্মীদের জন্য বিশেষ পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা চালু করেছে।
এস এম/ ২৫ জুন ২০২৬









