উপসাগরীয় অঞ্চলে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র পাল্টাপাল্টি হামলা, হুমকির মুখে যুদ্ধবিরতি চুক্তি

তেহরান, ২৭ জুন – উপসাগরীয় অঞ্চলে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নতুন করে পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনায় দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান যুদ্ধবিরতি ভেঙে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। উভয় পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে সমঝোতা লঙ্ঘনের অভিযোগ তোলায় সাম্প্রতিক কূটনৈতিক অগ্রগতি এখন গভীর অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বা আইআরজিসি শনিবার দাবি করেছে যে, মার্কিন হামলার জবাবে তারা উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সামরিক অবস্থানগুলো লক্ষ্য করে পাল্টা আক্রমণ চালিয়েছে। এর আগে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড বা সেন্টকম জানায়, তারা ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সংরক্ষণাগারসহ উপকূলীয় রাডার স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী একটি বাণিজ্যিক জাহাজে ইরানি ড্রোন হামলার প্রতিশোধ নিতেই এই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। সেন্টকমের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইরানি বাহিনীর এই পদক্ষেপ বাণিজ্যিক নৌপরিবহনের বিরুদ্ধে এক অযৌক্তিক আগ্রাসন এবং এটি যুদ্ধবিরতি চুক্তির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।
এদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানিয়েছে, শুক্রবার গভীর রাতে দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় সিরিক বন্দরের তাহেরুই জেটি এলাকায় একটি বড় ধরনের বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। সামরিক সূত্রের বরাতে জানানো হয়েছে, একটি প্রজেক্টাইল আঘাত হানার ফলে ওই বিস্ফোরণ ঘটে।
তবে নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, সিরিক বন্দরের কার্যক্রম বর্তমানে স্বাভাবিক রয়েছে এবং স্থাপনার কোনো বড় ক্ষতি হয়নি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অভিযোগ করেছেন যে, হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালিয়ে ইরান যুদ্ধবিরতি চুক্তির শর্ত ভঙ্গ করেছে।
মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স সতর্ক করে বলেছেন, ইরান যদি পুনরায় কোনো হামলা চালায় তবে তার জবাব কঠোরভাবে দেওয়া হবে। এর পরপরই আইআরজিসি এক বিবৃতিতে সতর্ক করে বলেছে, যেকোনো আগ্রাসনের ক্ষেত্রে তাদের এবারের জবাব হবে আগের চেয়েও অনেক বেশি ব্যাপক।
গত ১৭ জুন ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে স্বাক্ষরিত অন্তর্বর্তীকালীন সমঝোতা স্মারকটি এখন বড় ঝুঁকির মুখে পড়েছে। পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা বা আইএইএ এর মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রোসি সতর্ক করে বলেছেন, যেকোনো চূড়ান্ত সমঝোতার ক্ষেত্রে শক্তিশালী যাচাই ব্যবস্থা থাকা অপরিহার্য।
বিশ্লেষকদের মতে, উপসাগরে সামরিক উত্তেজনা, হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা সংকট এবং পারমাণবিক ইস্যু এখন ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে।
এস এম/ ২৭ জুন ২০২৬









