দক্ষিণ এশিয়া

যুক্তরাষ্ট্রে নতুন শুল্ক আরোপের প্রস্তাব: দিল্লির প্রতিক্রিয়া

নয়াদিল্লি, ৩ জুন – জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্যের আমদানি বন্ধে ব্যর্থতার অভিযোগে ভারতসহ বিশ্বের ৬০টির বেশি দেশের ওপর নতুন শুল্ক আরোপের প্রস্তাব দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধির দপ্তর (ইউএসটিআর) এই প্রস্তাব উত্থাপন করেছে।

তবে ভারতের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নয় এবং এ নিয়ে ওয়াশিংটনের সঙ্গে নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ রক্ষা করা হচ্ছে।

ভারতের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে জানানো হয়, যুক্তরাষ্ট্রের এই শুল্ক প্রস্তাবটি বর্তমানে পর্যালোচনা পর্যায়ে রয়েছে। সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো আগামী ২২ জুন ২০২৬ পর্যন্ত জনশুনানিতে অংশগ্রহণের জন্য আবেদন করতে পারবে। লিখিত মতামত প্রদানের সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ জুলাই পর্যন্ত এবং পরদিন ৭ জুলাই জনশুনানি অনুষ্ঠিত হবে।

প্রাপ্ত মতামত ও তথ্য প্রমাণের ভিত্তিতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে ইউএসটিআর। প্রস্তাবিত এই শুল্কের হার ১০ শতাংশ থেকে ১২.৫ শতাংশ পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে।

ইউএসটিআরের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয় যে বাংলাদেশ, কানাডা, মেক্সিকো, তাইওয়ান ও যুক্তরাজ্যের ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ হতে পারে। অন্যদিকে ভারত, চীন, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, ব্রাজিল ও সুইজারল্যান্ডের ওপর ১২.৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

অভিযোগ করা হয়েছে যে এই দেশগুলো জোরপূর্বক শ্রমের পণ্য আমদানি নিষিদ্ধ করার নিয়মগুলো সঠিকভাবে কার্যকর করতে পারেনি।

ট্রাম্প প্রশাসনের এই উদ্যোগ মূলত যুক্তরাষ্ট্রের ১৯৭৪ সালের ট্রেড অ্যাক্ট এর সেকশন ৩০১ (বি) (১) এর আওতায় নেওয়া হয়েছে। এর আগে বিভিন্ন দেশের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করা হয়েছিল যে তারা জোরপূর্বক শ্রম প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছে কি না।

ইউএসটিআর জানায়, ভারত ও বাংলাদেশসহ ৫৪টি অর্থনীতি এই ক্ষেত্রে ব্যর্থ হয়েছে। তবে ভারতের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে নির্দিষ্ট কিছু পণ্য এবং বস্ত্র ও পোশাক খাতের জন্য বিশেষ ছাড়ের প্রস্তাবও রয়েছে। সেকশন ২৩২ এর আওতায় থাকা পণ্যগুলো এই নতুন শুল্কের বাইরে থাকতে পারে।

চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসার আগে রপ্তানি ব্যয় বৃদ্ধির আশঙ্কায় ভারতসহ অন্যান্য দেশগুলো এই প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করছে।

এনএন/ ৩ জুন ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language