ইরানে বড় ধরনের হামলার পরিকল্পনা স্থগিত করলেন ট্রাম্প

ওয়াশিংটন, ২০ মে – ইরানে বড় ধরনের নতুন সামরিক অভিযান চালানোর হুমকি দিয়েও শেষ মুহূর্তে নিজের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সোমবার তিনি চলতি সপ্তাহে বড় হামলার ইঙ্গিত দিলেও কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে তা স্থগিত করার ঘোষণা দেন।
এই সিদ্ধান্তের পেছনে কূটনৈতিক তৎপরতা, যুদ্ধের ক্রমবর্ধমান ব্যয় এবং ইরানের সামরিক সক্ষমতার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানিয়েছেন, কাতার, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের শীর্ষ নেতাদের অনুরোধে তিনি হামলার পরিকল্পনা পিছিয়ে দিয়েছেন।
আরব দেশগুলোর নেতাদের বিশ্বাস,
যুদ্ধের পরিবর্তে আলোচনার মাধ্যমে একটি টেকসই সমাধানে পৌঁছানো সম্ভব। ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, আমরা একটি বড় হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। তবে আপাতত তা থামিয়ে দিয়েছি। বোমা না ফেলেই যদি সমস্যার সমাধান হয়, তবে তা সবার জন্যই ভালো হবে।
মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে জানা গেছে,
ইরান যুদ্ধক্ষেত্রে ধারণার চেয়েও বেশি প্রতিরোধ ক্ষমতা প্রদর্শন করেছে। দেশটির অনেক ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি সচল রয়েছে এবং ভূগর্ভস্থ স্থাপনাগুলোও লক্ষ্যভেদী হামলায় সম্পূর্ণ ধ্বংস করা সম্ভব হয়নি। এছাড়া মার্কিন যুদ্ধবিমানের গতিবিধি ইরান আগে থেকেই আঁচ করতে পারছিল বলে সন্দেহ করছে ওয়াশিংটন।
এদিকে যুদ্ধের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরেও প্রবল জনমত তৈরি হয়েছে। সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, দেশটির ৬৪ শতাংশ ভোটার ইরানের সঙ্গে সরাসরি যুদ্ধে জড়ানোর বিপক্ষে। এছাড়া দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের অর্থনৈতিক চাপ নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে।
শুরুতে ট্রাম্প যুদ্ধটি চার থেকে পাঁচ সপ্তাহের মধ্যে শেষ করার কথা বললেও তিন মাস পার হওয়ার পর পরিস্থিতি আরও জটিল রূপ নিয়েছে। তবে কিছু বিশ্লেষক মনে করছেন, ট্রাম্পের এই পিছু হটা একটি কৌশলগত চাল হতে পারে।
এস এম/ ২০ মে ২০২৬









