রাজধানীতে তীব্র গ্যাস সংকট: সিএনজি স্টেশন ও বাসাবাড়িতে চরম ভোগান্তি

ঢাকা, ২০ মে – তেল নিয়ে ভোগান্তি শেষ হতে না হতেই এবার তীব্র গ্যাস সংকটে পড়েছে রাজধানী ঢাকা। গত দেড় থেকে দুই মাস ধরে সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোতে গ্যাসের চাপ মারাত্মকভাবে কমে গেছে। এতে সিএনজিচালিত যানবাহনের চালকদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে।
কাঙ্ক্ষিত গ্যাস না পেয়ে অনেক স্টেশন দিনের বেলা বন্ধ রাখছে কর্তৃপক্ষ। অন্যদিকে বাসাবাড়িতেও রান্নার গ্যাসের জন্য হাহাকার দেখা দিয়েছে। গৃহিণীদের দিনের রান্না সারতে হচ্ছে গভীর রাতে। কুড়িল ভাটারা এলাকায় পিন্যাকাল পাওয়ার সিএনজি স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, গ্যাসের চাপ না থাকায় দিনের বেলা সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়েছে।
পাম্প সংশ্লিষ্টরা জানান,
কেবল রাতেই চাপ কিছুটা বাড়ে। প্রগতি সরণির ফিলিং স্টেশনের চিত্রও একই রকম। সেখানে গাড়ির সারি প্রায় এক কিলোমিটার ছাড়িয়ে গেছে। চালকরা জানান, কম চাপের কারণে পর্যাপ্ত গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না, ফলে দিনে কয়েকবার পাম্পে আসতে হচ্ছে। মিরপুর ১২ নম্বরের সিরামিক ওয়ার্কস স্টেশনেও একই ভোগান্তি চিত্রিত হয়েছে।
সেখানকার কর্মকর্তারা জানান,
গ্যাসের চাপ ১০০ পিএসআই এর নিচে নেমে গেলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি থাকে বলে সরবরাহ বন্ধ রাখতে হয়। বাংলাদেশ সিএনজি ফিলিং স্টেশন অ্যান্ড কনভার্সন ওয়ার্কশপ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঢাকার বাইরে গাজীপুরসহ বিভিন্ন স্থানেও এই সংকট তীব্র।
বিষয়টি বারবার কর্তৃপক্ষকে জানিয়েও কোনো সমাধান মেলেনি। এদিকে মিরপুর, মোহাম্মদপুর, রামপুরাসহ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় আবাসিক গ্যাস সংযোগেও সংকট দেখা দিয়েছে। দিনের বেলা চুলায় কোনো গ্যাস না থাকায় গ্রাহকরা এলপিজি বা বৈদ্যুতিক চুলার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছেন।
তিতাস গ্যাস সূত্রে জানা গেছে,
বর্তমানে দেশে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা ৩ হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট। বিপরীতে সরবরাহ করা হচ্ছে মাত্র ২ হাজার ৭০০ মিলিয়ন ঘনফুট। এই বিশাল ঘাটতির কারণেই মূলত শিল্প, পরিবহন ও আবাসিক খাতে এমন বিপর্যয়কর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
এস এম/ ২০ মে ২০২৬









