ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে বিপুল বিনিয়োগ সত্ত্বেও ফিরেছে দীর্ঘ যানজট ও যাত্রী ভোগান্তি

ঢাকা, ২০ মে – দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের প্রাণকেন্দ্র ঢাকা ও চট্টগ্রামের মধ্যে যাতায়াত ব্যবস্থা সহজ করতে গত এক দশকে বিপুল বিনিয়োগ করা হয়েছে। সড়কপথ চার লেনে এবং রেলপথকে ডাবল লাইনে উন্নীত করতে প্রায় সাড়ে ১৫ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হলেও তার প্রত্যাশিত সুফল মিলছে না।
অদূরদর্শী পরিকল্পনা, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের অভাব এবং তীব্র যানজটের কারণে এই রুটে যাতায়াতের সময় পুনরায় দীর্ঘ হচ্ছে। এক সময় যে যাত্রা ৪ ঘণ্টায় সম্পন্ন হতো বর্তমানে তা ৭ থেকে ৮ ঘণ্টায় দাঁড়িয়েছে। ঢাকা থেকে চট্টগ্রামের রেলপথে ৩২১ কিলোমিটার দূরত্ব পাড়ি দিতে বর্তমানে বিলাসবহুল বিরতিহীন ট্রেনগুলোও ৬ ঘণ্টার বেশি সময় নিচ্ছে।
২০১৫ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে রেলপথে ডাবল লাইন নির্মাণের কাজ শেষ হলেও পুরোনো ইঞ্জিন ও কোচের সীমাবদ্ধতায় গতির উন্নয়ন ঘটছে না।
রেলওয়ে সংশ্লিষ্টরা বলছেন,
রেলপথে পর্যাপ্ত পাথর না থাকা এবং ট্রেনের ইঞ্জিনের যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে উচ্চগতিতে ট্রেন চালানো ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।
বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক মো. আফজাল হোসেন জানান,
অবকাঠামোগত উন্নয়ন হলেও প্রয়োজনীয় কোচ ও ইঞ্জিন সংকটের কারণে ট্রেন চলাচলের সময় আগের অবস্থানে ফিরে যাচ্ছে। তবে দ্রুত ইঞ্জিন আমদানির মাধ্যমে এই সংকট নিরসনের চেষ্টা চলছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। অন্যদিকে ঢাকা চট্টগ্রাম মহাসড়ক চার লেনে উন্নীত করার পরও যানজট সমস্যার কার্যকর সমাধান হয়নি।
সড়ক ও জনপথ বিভাগের তথ্যমতে,
২০১৬ সালে এই সড়ক দিয়ে দৈনিক প্রায় সাড়ে ১৬ হাজার যানবাহন চলাচলের প্রাক্কলন করা হলেও বর্তমানে তা ৫০ হাজার ছাড়িয়েছে। সার্ভিস লেন না থাকা এবং মহাসড়কের পাশে গড়ে ওঠা বাজারগুলোর কারণে যানবাহনের গতি শ্লথ হয়ে যাচ্ছে।
সওজ বিভাগের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী আবদুল হালিম জানান,
মহাসড়কটি ১০ লেনে উন্নীত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে যা ভবিষ্যতে নিরাপদ ও দ্রুত যাতায়াত নিশ্চিত করবে। বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী এই পরিস্থিতির জন্য অব্যবস্থাপনা ও দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার অভাবকে দায়ী করেছেন।
তিনি বলেন, হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের পরও যাত্রীদের ভোগান্তি না কমে বরং আগের মতোই দীর্ঘ সময় ব্যয় করতে হচ্ছে যা কোনোভাবেই কাম্য নয়।
এস এম/ ২০ মে ২০২৬









