আহমাদিনেজাদকে ইরানের ক্ষমতায় বসানোর পরিকল্পনা ছিল যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের: নিউইয়র্ক টাইমস

ওয়াশিংটন, ২০ মে – ইরান যুদ্ধের শুরুর দিকে দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমাদিনেজাদকে পুনরায় ক্ষমতায় বসানোর একটি গোপন পরিকল্পনা করেছিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। মার্কিন কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর দাবি করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে,
অপারেশন রোরিং লায়ন এবং এপিক ফিউরি নামের সামরিক অভিযানের অন্যতম লক্ষ্য ছিল ইরানের বর্তমান শাসন ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনা এবং এমন একজন নেতাকে সামনে আনা যিনি নতুনভাবে নেতৃত্ব দিতে পারবেন। মার্কিন কর্মকর্তাদের ধারণা ছিল যে আহমাদিনেজাদ ইরানের বিদ্যমান রাজনৈতিক এবং সামাজিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সক্ষম।
২০০৫ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করা আহমাদিনেজাদ একসময় কট্টর ইসরায়েল ও আমেরিকা বিরোধী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তবে ক্ষমতা ছাড়ার পর তিনি বর্তমান ইরানি শাসকগোষ্ঠীর কড়া সমালোচকে পরিণত হন। ২০১৭, ২০২১ এবং ২০২৪ সালের নির্বাচনে তাকে অযোগ্য ঘোষণা করেছিল ইরানের অভিভাবক পরিষদ।
নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে,
যুদ্ধের শুরুতে তেহরানে আহমাদিনেজাদের বাসভবনে যে হামলা হয়েছিল সেটি তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে নয় বরং তাকে উদ্ধার করার জন্য চালানো হয়েছিল। একটি সূত্রের দাবি অনুযায়ী আহমাদিনেজাদ নিজেও ওই ঘটনাকে কারাগার থেকে মুক্ত করার প্রচেষ্টা হিসেবে বিবেচনা করেছিলেন।
ওই হামলায় তিনি আহত হওয়ার পর থেকেই তার বর্তমান অবস্থান নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। পুরো পরিকল্পনাটি মূলত ইসরায়েলের পক্ষ থেকে প্রস্তাব করা হয়েছিল এবং আহমাদিনেজাদের সঙ্গে এ বিষয়ে প্রাথমিক যোগাযোগও করা হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
তবে হামলায় তিনি গুরুতর আহত হওয়ায় সেই পরিকল্পনা ভেস্তে যায়। হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে এই বিষয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য করা হয়নি। মুখপাত্র জানিয়েছেন যে ট্রাম্প প্রশাসনের মূল লক্ষ্য ছিল ইরানের সামরিক ও পারমাণবিক সক্ষমতা ধ্বংস করা। বিশ্লেষকদের মতে আহমাদিনেজাদকে পুনরায় ক্ষমতায় আনার চিন্তাটি ছিল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ কারণ অতীতে তিনি ইসরায়েলকে মানচিত্র থেকে মুছে ফেলার হুমকি দিয়েছিলেন।
এস এম/ ২০ মে ২০২৬









