শেষ মুহূর্তে ইরানের ওপর মার্কিন হামলা স্থগিত করলেন ট্রাম্প

ওয়াশিংটন, ১৯ মে – তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের দ্বারপ্রান্ত থেকে যেন এক পা পেছালো বিশ্ব! শেষ মুহূর্তে মধ্যপ্রাচ্যের প্রভাবশালী নেতাদের জরুরি অনুরোধে ইরানের ওপর ‘পূর্বনির্ধারিত’ এক বড় ধরনের সামরিক হামলা স্থগিত ঘোষণা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তেহরানের সঙ্গে চলমান কূটনৈতিক আলোচনায় বেশ কিছু অগ্রগতি হওয়ার পর তিনি এই নাটকীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানা গেছে।
নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প নিজেই এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাঁর পোস্টে অত্যন্ত ইতিবাচক বার্তা দিয়ে লিখেছেন, ‘একটি চুক্তি হতে যাচ্ছে, যা যুক্তরাষ্ট্রসহ মধ্যপ্রাচ্য ও এর বাইরের সব দেশের জন্যই গ্রহণযোগ্য হবে।’
তবে ট্রাম্প প্রশাসন, ইসরায়েল এবং ইরানের মধ্যেকার এই দীর্ঘদিনের থমকে থাকা আলোচনায় ঠিক কী ধরনের ম্যাজিক বা অগ্রগতি হয়েছে, তা এখনো খোলসা করা হয়নি। ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানি এবং সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের (MBS) মতো আঞ্চলিক শীর্ষ নেতাদের সরাসরি মধ্যস্থতার কারণেই তিনি হামলার সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছেন।
পোস্টে ট্রাম্প মার্কিন সামরিক বাহিনীকে কড়া বার্তা দিয়ে বলেন, ‘আমি যুদ্ধমন্ত্রী (প্রতিরক্ষামন্ত্রী) পিট হেগসেথ, জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যানিয়েল কেইন এবং মার্কিন সামরিক বাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছি যে, আগামীকাল (মঙ্গলবার) ইরানে আমাদের যে নির্ধারিত হামলা চালানোর কথা ছিল, তা আমরা করছি না।’
তবে যুদ্ধ থামলেও হুঁশিয়ারি থামেনি। ট্রাম্প সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, যদি কোনো কারণে সম্মানজনক চুক্তি না হয়, তবে যেকোনো মুহূর্তে ইরানের ওপর পূর্ণমাত্রায় বড় ধরনের হামলা চালানোর জন্য মার্কিন বাহিনীকে প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েলের সঙ্গে জোট বেঁধে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি ইরানে হামলা চালানোর পর থেকেই এই রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের সূত্রপাত হয়। দীর্ঘদিনের এই যুদ্ধাবস্থা নিরসনে পর্দার আড়াল থেকে গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে দক্ষিণ এশিয়ার দেশ পাকিস্তান।
ট্রাম্পের দাবি, ইরান যাতে কোনোভাবেই পরমাণু অস্ত্র তৈরি করতে না পারে, সেটাই আমেরিকার মূল লক্ষ্য। তিনি পরমাণু অস্ত্রকে ‘রেড লাইন’ বা চূড়ান্ত সীমা হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এই চুক্তির সবচেয়ে বড় শর্তই হবে ইরান পরমাণু অস্ত্র তৈরি করতে পারবে না। এছাড়া ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি, নৌবাহিনী ভেঙে দেওয়া এবং আঞ্চলিক প্রক্সি মিত্রদের সঙ্গে তেহরানের সম্পর্ক ছিন্ন করার দাবি জানাচ্ছে ওয়াশিংটন।
অন্যদিকে ট্রাম্পের এই দাবিগুলোকে ‘অতিরিক্ত ও অযৌক্তিক’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে তেহরান। ইরানের দাবি, তাদের জব্দ করা সমস্ত বিদেশি সম্পদ আগে অবমুক্ত করতে হবে এবং সব ধরনের অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করতে হবে।
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান স্পষ্ট ভাষায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়েছেন, ‘সংলাপ মানে আত্মসমর্পণ নয়। ইরান মর্যাদা ও কর্তৃত্বের সঙ্গে আলোচনায় অংশ নিচ্ছে এবং জনগণের আইনি অধিকার থেকে এক চুলও পিছপা হবে না।’
এখন দেখার বিষয়, কাতার ও সৌদির মধ্যস্থতায় এই সম্ভাব্য চুক্তি মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি ফেরাতে পারে নাকি এটি কেবলই সাময়িক যুদ্ধবিরতি!
এনএন/ ১৯ মে ২০২৬









