মাঝআকাশে দুই যুদ্ধবিমানের ভয়াবহ সংঘর্ষ, অলৌকিকভাবে রক্ষা পেলেন ৪ ক্রু

ওয়াশিংটন, ১৮ মে – আমেরিকার আইডাহো অঙ্গরাজ্যের মাউন্টেন হোম এয়ার ফোর্স বেসে চলমান ‘গানফাইটার স্কাইজ এয়ার শো’ তখন মধ্যগগনে। হাজার হাজার দর্শনার্থী চোখ আকাশে রেখে উপভোগ করছেন যুদ্ধবিমানের শ্বাসরুদ্ধকর কসরত। ঠিক তখনই ঘটল সেই শিউরে ওঠা দুর্ঘটনা! মাঝআকাশে হঠাৎ করেই একে অপরের সাথে সংঘর্ষ হয় মার্কিন নৌবাহিনীর দুটি অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমানের। চোখের পলকে আকাশ ফুঁড়ে নেমে আসে আগুনের গোলা। তবে সিনেমার গল্পকেও হার মানিয়ে অলৌকিকভাবে বেঁচে গেছেন বিমানের ভেতরে থাকা চারজন ক্রু-ই।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস-এর স্থানীয় সহযোগী চ্যানেল কোমো নিউজ জানিয়েছে, দুর্ঘটনাকবলিত বিমান দুটি ছিল মার্কিন নৌবাহিনীর (US Navy) অত্যন্ত শক্তিশালী ‘ইএ-১৮জি গ্রাউলার’ (EA-18G Growler) মডেলের যুদ্ধবিমান। ওয়াশিংটনের হুইডবি আইল্যান্ড ঘাঁটি থেকে এগুলো এয়ার শো-তে অংশ নিতে এসেছিল।
ভিডিওতে দেখা যায়, আকাশে সংঘর্ষের ঠিক পর মুহূর্তেই বিমান দুটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে হুড়মুড় করে নিচের দিকে পড়তে থাকে। তবে মাটিতে আছড়ে পড়ার ঠিক আগের মুহূর্তে ‘ইজেকশন সিট’ প্রযুক্তির কল্যাণে প্যারাশুট নিয়ে নিরাপদে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হন বিমানে থাকা চারজন ক্রু ও পাইলট।
এয়ার ফোর্স বেসের উত্তর-পশ্চিমে প্রায় দুই মাইল দূরে একটি ফাঁকা জায়গায় বিমান দুটি আছড়ে পড়ে। মাটিতে আঘাত হানার সাথে সাথেই সেখানে একটি বিশাল বিস্ফোরণ ঘটে এবং কুচকুচে কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যায় আকাশ। দূর থেকে দর্শনার্থীরা যখন সেই ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখছিলেন, ঠিক তখনই ওপর থেকে চারটি প্যারাশুটকে ধীরে ধীরে নিচে নেমে আসতে দেখা যায়।
দুর্ঘটনার পরপরই এয়ার শোর সমস্ত কার্যক্রম স্তব্ধ করে দেওয়া হয় এবং নিরাপত্তার স্বার্থে পুরো সামরিক ঘাঁটিতে জরুরি ‘লকডাউন’ জারি করা হয়। উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ক্রুদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়। অলৌকিকভাবে এই ভয়াবহ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি।
এয়ার শো-তে সাধারণত অত্যন্ত নিখুঁত টাইমিং এবং মিলিমিটারের ব্যবধানে বিমান চালনা করতে হয়। সামান্যতম হিসেবের গড়মিলে এই ধরনের বিপর্যয় ঘটে। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে ইতোমধ্যে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। লাখ লাখ ডলার মূল্যের দুটি যুদ্ধবিমান পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেলেও, চারজন দক্ষ সামরিক কর্মকর্তার প্রাণ বেঁচে যাওয়াকে এই মুহূর্তে বড় স্বস্তি হিসেবে দেখছে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর।
এনএন/ ১৮ মে ২০২৬









