চট্টগ্রাম

চট্টগ্রামে জুলাই অভ্যুত্থানের গ্রাফিতি মোছা নিয়ে তুমুল উত্তেজনা, মুখোমুখি বিএনপি ও এনসিপি

চট্টগ্রাম, ১৮ মে – বিগত জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতিবিজড়িত দেয়ালচিত্র বা গ্রাফিতি মুছে ফেলার অভিযোগকে কেন্দ্র করে উত্তাল হয়ে উঠেছে বন্দরনগরী চট্টগ্রাম। রোববার (১৭ মে) রাতে নগরের টাইগারপাস এলাকায় এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিএনপি এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা দেখা দেয়। মধ্যরাত পর্যন্ত দুই পক্ষের মুখোমুখি অবস্থান এবং পাল্টাপাল্টি স্লোগানে পুরো এলাকায় এক থমথমে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। তবে শেষ মুহূর্তে পুলিশি হস্তক্ষেপে কোনো বড় ধরনের সংঘাত ঘটেনি।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রোববার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে জুলাই অভ্যুত্থানের গ্রাফিতি মুছে ফেলার প্রতিবাদে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) প্রবেশমুখে আকস্মিক বিক্ষোভ শুরু করেন এনসিপির মহানগর শাখার নেতাকর্মীরা। তারা টাইগারপাস মোড়ে অবস্থিত চসিক কার্যালয়ের সামনে ব্যারিকেড সৃষ্টি করেন এবং চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনকে ইঙ্গিত করে সড়ক ও দেয়ালে নতুন করে বিভিন্ন স্লোগান লিখে দেন।

এনসিপির নেতাকর্মীরা চসিকের সামনে থেকে সরে যাওয়ার পরপরই সেখানে চসিক মেয়রের সমর্থনে মিছিল বের করেন বিএনপির নেতাকর্মীরা। ঘটনাটি জানাজানি হলে এনসিপির চট্টগ্রাম মহানগরের সদস্যসচিব আরিফ মঈনুদ্দিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি লাইভ ও পোস্টের মাধ্যমে অভিযোগ করেন—মেয়রের নির্দেশেই গ্রাফিতি নষ্ট করতে লোক পাঠানো হয়েছে। তিনি তার দলের নেতাকর্মীদের পুনরায় চসিক কার্যালয়ের সামনে জড়ো হওয়ার ডাক দেন।

এর জের ধরে রাত ১১টার দিকে দুই পক্ষই আবারও টাইগারপাস এলাকায় রাজপথে নেমে আসে এবং একে অপরের বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে থাকে। পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কায় দ্রুত ঘটনাস্থলে ৩০ থেকে ৪০ জন অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়।

টানটান উত্তেজনার মাঝেই রাত সোয়া ১২টার দিকে নেতাকর্মীদের নিয়ে নগরের লালখান বাজার এলাকায় হাজির হন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। সেখানে দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি জুলাই বিপ্লবে নিজের ত্যাগ ও নির্যাতনের কথা তুলে ধরে এনসিপি নেতার তীব্র সমালোচনা করেন।

মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, “গ্রাফিতি নিয়ে আমার অবস্থান পরিষ্কার করার পরও এনসিপির এক বিতর্কিত নেতা শহরকে অশান্ত করার অপচেষ্টা চালাচ্ছেন। জুলাই বিপ্লবের সময় আমার নিজের বাসায় হামলা হয়েছে, ভাঙচুর হয়েছে এবং ১৬টি গাড়ি পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। তাই যারা ঘরে বসে ছিলেন, তাদের এখন আমার সামনে এসে মায়াকান্না করে কোনো লাভ নেই।”

মেয়র আরও ঘোষণা দেন যে, জুলাই অভ্যুত্থানের স্মৃতি ধরে রাখতে আর্ট কলেজের শিক্ষার্থীদের দিয়ে আরও নান্দনিক ও পরিকল্পিত উপায়ে দেয়ালচিত্র বা গ্রাফিতি অঙ্কন করা হবে। এর যাবতীয় খরচ চসিক বহন করবে, আর চসিক যদি না-ও পারে, তবে তিনি নিজের ব্যক্তিগত তহবিল থেকে টাকা দিয়ে এই স্মৃতি রক্ষা করবেন। মেয়রের এই আশ্বাসের পর গভীর রাতে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয়।

এনএন/ ১৮ মে ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language