ইউরোপ

যুদ্ধবিরতি শেষ হতেই যুদ্ধক্ষেত্রে চরম সংঘাত, রাশিয়ার ১৪ অঞ্চলে ইউক্রেনের নজিরবিহীন ড্রোন হামলা

মস্কো, ১৮ মে – চলমান রুশ-ইউক্রেন যুদ্ধের ইতিহাসে এক নজিরবিহীন ও সবচেয়ে বড় ধাক্কা খেল পুতিনের রাশিয়া। একদিনে, এক রাতে প্রায় ৬০০টি ড্রোন নিয়ে রাশিয়ার ওপর আকাশপথে ইতিহাসের অন্যতম বৃহত্তম কামিকাজে হামলা চালিয়েছে ইউক্রেন। এই ঝোড়ো হামলায় রাজধানী মস্কো এবং সীমান্ত লাগোয়া বেলগোরোদ অঞ্চলে চারজন নিহত হয়েছেন, আহত হয়েছেন আরও বহু মানুষ। ধোঁয়ায় ঢেকে গেছে মস্কোর আকাশ, ব্যাহত হয়েছে বিমান চলাচল। খোদ ক্রেমলিনের দোরগোড়ায় ইউক্রেনীয় ড্রোনের এমন ঝাঁক বেঁধে ধেয়ে আসার ঘটনায় বিশ্বজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে।

রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দাবি অনুযায়ী, ইউক্রেনীয় বাহিনীর এই আকাশযুদ্ধ রুখতে তাদের বিমান প্রতিরক্ষা (Air Defence) ব্যবস্থাকে সর্বোচ্চ শক্তি ব্যবহার করতে হয়েছে। রাতভর রাশিয়ার ১৪টি অঞ্চলসহ অধিকৃত ক্রাইমিয়া, কৃষ্ণসাগর ও আজভ সাগরের আকাশে মোট ৫৫৬টি ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করেছে রুশ বাহিনী।

সকাল হতেই আলো ফোটার পর আরও ৩০টি ড্রোন আকাশেই নিষ্ক্রিয় করা হয়। সব মিলিয়ে সংখ্যাটা প্রায় ৬০০!

সবচেয়ে বড় আতঙ্কের বিষয় হলো, সীমান্ত থেকে প্রায় ৪০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত সুরক্ষিত রাজধানী মস্কো শহরই ছিল এই হামলার মূল নিশানা। খোদ মস্কো শহরের বুকেই ৮০টিরও বেশি ড্রোন ধ্বংস করা হয়েছে।

মস্কো অঞ্চলের গভর্নর আন্দ্রেই ভোরোবিয়ভ জানিয়েছেন, রাত ৩টা থেকে শুরু হওয়া এই হামলায় একটি ড্রোন সরাসরি একটি আবাসিক বাড়িতে আঘাত করলে এক নারী নিহত হন। ধসে পড়া ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও মানুষ আটকে আছেন। এছাড়া ভোররাতের দিকে আলাদা হামলায় আরও দুই পুরুষ নিহত হন।

অন্যদিকে, মস্কোর মেয়র সের্গেই সোবিয়ানিন জানান, ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ এসে পড়েছে মস্কোর প্রধান তেল ও গ্যাস শোধনাগারের (Oil Refinery) ওপর। সেখানে কাজ করতে থাকা বেশ কয়েকজন নির্মাণ শ্রমিক গুরুতর আহত হয়েছেন। হামলার পর শোধনাগার এলাকায় দাউদাউ করে আগুন জ্বলতে দেখা যায়, যদিও উৎপাদন ব্যাহত হয়নি বলে দাবি ক্রেমলিনের। এর পাশাপাশি সীমান্ত অঞ্চলের বেলগোরোদে ড্রোনের আঘাতে একটি লরির চালক নিহত হয়েছেন।

এই নজিরবিহীন হামলার পেছনে রয়েছে ইউক্রেনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ ও নিখুঁত প্রতিশোধের রণকৌশল। মাত্র কয়েকদিন আগেই রাশিয়া কিয়েভে এক ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে ২৪ জন ইউক্রেনীয় নাগরিককে হত্যা করেছিল। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি তখনই হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন—”রক্তের বদলা নেওয়া হবে।”

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নাৎসি জার্মানির বিরুদ্ধে বিজয়ের বার্ষিকী উপলক্ষে দুই দেশ যে তিন দিনের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেছিল, তা শেষ হতেই মস্কো ও কিয়েভ আবার ভয়ঙ্কর রূপে মুখোমুখি।

বিশ্লেষকদের মতে, এতদিন ইউক্রেন মূলত রক্ষণাত্মক যুদ্ধ খেললেও, এবার সরাসরি রাশিয়ার মনস্তাত্ত্বিক রাজধানী মস্কোকে কাঁপিয়ে দিয়ে জেলেনস্কি পুতিনকে স্পষ্ট বার্তা দিলেন—”যুদ্ধ এখন আর শুধু ইউক্রেনের সীমানায় সীমাবদ্ধ নেই।” আন্তর্জাতিক কূটনীতি যখন ইরান-ইসরায়েল সংকটের দিকে ব্যস্ত, ঠিক তখনই সুযোগ বুঝে রাশিয়াকে এই শতাব্দীর সবচেয়ে বড় ড্রোন ধাক্কা দিল ইউক্রেন।

এনএন/ ১৮ মে ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language