তেলের দামে আগুন, রণক্ষেত্র কেনিয়া! পুলিশের সঙ্গে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে নিহত ৪

নাইরোবি, ১৯ মে – জ্বালানি তেলের রেকর্ড মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে পূর্ব আফ্রিকার দেশ কেনিয়ায় তীব্র গণবিক্ষোভ ও সহিংসতা ছড়িয়ে পড়েছে। দেশব্যাপী চলমান গণপরিবহন ধর্মঘটের সমর্থনে সাধারণ মানুষ রাস্তায় নেমে এলে পুলিশের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত চারজন বিক্ষোভকারী নিহত এবং ৩০ জনেরও বেশি মানুষ গুরুতর আহত হয়েছেন।
গত সোমবার (১৮ মে) দিনভর চলা এই নজিরবিহীন বিক্ষোভের পর দেশজুড়ে চিরুনি অভিযান চালিয়ে অন্তত ৩৪৮ জনকে গ্রেফতার করেছে কেনিয়ার আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। কেনিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কিপচুম্বা মুরকোমেন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, সোমবার সকাল থেকেই রাজধানী নাইরোবি এবং দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর মোম্বাসাসহ প্রধান প্রধান শহরের সড়কগুলো অবরোধ করে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন আন্দোলনকারীরা। একপর্যায়ে পুলিশ বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে নির্বিচারে কাঁদানে গ্যাস ও লাঠিচার্জ শুরু করলে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে রূপ নেয়। বিক্ষোভকারীরাও পাল্টা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। সংঘর্ষের তীব্রতায় দুপুরের দিকে রাজধানীর কেন্দ্রস্থলের ব্যস্ততম সড়কগুলো পুরোপুরি জনশূন্য হয়ে পড়ে।
পরিবহন ধর্মঘটের কারণে পুরো দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। বাস ও গণপরিবহন বন্ধ থাকায় হাজার হাজার সাধারণ মানুষকে মাইলের পর মাইল হেঁটে কর্মস্থল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যেতে দেখা গেছে।
কেনিয়ার পরিবহন ইউনিয়নগুলো স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, বর্ধিত জ্বালানির দাম অবিলম্বে প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত তারা রাস্তায় গাড়ি নামাবে না। পরিসংখ্যান বলছে, কেনিয়া সরকার গত মাসে এক ধাক্কায় তেলের দাম ২৪.২% বাড়িয়েছিল। সেই ধাক্কা সামলে ওঠার আগেই গত সপ্তাহে আবারও খুচরা পর্যায়ে তেলের দাম ২৩.৫% বাড়ানো হয়েছে। অর্থাৎ, মাত্র এক মাসের ব্যবধানে দেশটিতে জ্বালানির দাম প্রায় ৫০% বৃদ্ধি পেয়েছে! আর এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে খাদ্যসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে, যা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে নরক গুলজার করে তুলেছে।
কেনিয়ার জ্বালানি ও পেট্রোলিয়াম মন্ত্রণালয় এই লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধির পক্ষে সাফাই গেয়ে জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে বিশেষ করে ইরানে চলমান যুদ্ধাবস্থার কারণে বিশ্ববাজারে তেলের তীব্র সংকট তৈরি হয়েছে। উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে তেল আমদানির ওপর নির্ভরশীল কেনিয়ার মতো আফ্রিকান দেশগুলো মূলত ‘হরমুজ প্রণালী’ অবরুদ্ধ থাকার কারণে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছে।
যদিও কেনিয়া সরকারের দাবি, রাজনৈতিক মহল ও অপরাধী চক্র নিজেদের স্বার্থে সাধারণ মানুষের এই ক্ষোভকে ব্যবহার করে দেশে বিশৃঙ্খলা তৈরি করছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের আগুন এখন পরোক্ষভাবে আফ্রিকার সাধারণ মানুষের পকেট ও পেটে আঘাত হানতে শুরু করেছে।
এনএন/ ১৯ মে ২০২৬









