প্রচারণার হাতিয়ার হলিউড: চিত্রনাট্যকারদের সঙ্গে ন্যাটোর রুদ্ধদ্বার বৈঠক

ব্রাসেলস, ৪ মে – বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ও প্রভাবশালী সংস্থা নিজেদের স্বার্থসিদ্ধির জন্য চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন শিল্পকে মাধ্যম হিসেবে ব্যবহারের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। তবে এবার পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোর বিরুদ্ধে লস অ্যাঞ্জেলেস থেকে প্যারিস পর্যন্ত চলচ্চিত্র নির্মাতাদের সঙ্গে গোপন বৈঠকের এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ন্যাটো গোপনে চিত্রনাট্যকার ও প্রযোজকদের সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করে তাদেরকে প্রচারণার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের চেষ্টা করছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘ভীতি ছড়ানো’ ও সুনির্দিষ্ট প্রপাগাণ্ডা বা প্রচারণার উদ্দেশ্যে শিল্পকলাকে ব্যবহারের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে এই সামরিক জোট। এই লক্ষ্য অর্জনে ইতোমধ্যে লস অ্যাঞ্জেলেস, ব্রাসেলস ও প্যারিসে তিনটি পৃথক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুধু তাই নয়, আগামী মাসে লন্ডনে ‘রাইটার্স গিল্ড অফ গ্রেট ব্রিটেন’-এর সদস্যদের সঙ্গে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের প্রস্তুতি চলছে।
জানা গেছে, ব্রিটিশ থিঙ্ক ট্যাঙ্ক চ্যাথাম হাউসের তত্ত্বাবধানে লন্ডনের এই বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হবে। এতে ইউরোপের নিরাপত্তা পরিস্থিতির পরিবর্তনসহ বিভিন্ন বৈশ্বিক বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হবে। এই প্রক্রিয়ায় ন্যাটোর সাইবার ও উদ্ভাবনী প্রযুক্তি বিষয়ক উপপ্রধান জেমস অ্যাপাথুরাই সরাসরি অংশ নিতে পারেন। সংবাদমাধ্যমটির দাবি, এসব আলোচনার ইতিবাচক প্রভাব ইতোমধ্যে দৃশ্যমান হতে শুরু করেছে।
রাইটার্স গিল্ডের একটি অভ্যন্তরীণ ই-মেইলের তথ্য অনুযায়ী, অন্তত তিনটি পৃথক চলচ্চিত্র বা টেলিভিশন প্রজেক্ট এসব বৈঠকের অনুপ্রেরণায় কাজ শুরু করেছে। তবে এই পুরো প্রক্রিয়াটি নিয়ে চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। আইরিশ চিত্রনাট্যকার অ্যালান ও’গরম্যান এই পদক্ষেপকে সরাসরি ‘প্রচারণামূলক’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।
তিনি জানান, ইউরোপজুড়ে এমন একটি পরিবেশ তৈরির চেষ্টা চলছে যেখানে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দুর্বল বলে দাবি করা হচ্ছে। তার মতে, এটি মূলত সাধারণ মানুষের মধ্যে ভীতি তৈরির একটি কৌশল হতে পারে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, আয়ারল্যান্ডের গণমাধ্যম ও সরকার ন্যাটোকে ইতিবাচকভাবে তুলে ধরার যে চেষ্টা করছে, তা মূলত এই প্রক্রিয়ারই অংশ। অনেক চিত্রনাট্যকারই ন্যাটোর প্রচারণায় যুক্ত হতে উৎসাহিত করার বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
এদিকে ন্যাটোর অভ্যন্তরে ক্রমবর্ধমান বিভেদ ও সংকট স্পষ্ট হয়ে উঠছে। পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টাস্ক সম্প্রতি মন্তব্য করেছেন যে, জোটটি এখন বাইরের শত্রুর চেয়েও বড় ধরনের অভ্যন্তরীণ ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। এর আগে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ইস্যুতে জোটের সদস্যদের মধ্যে মতপার্থক্য দেখা দিয়েছে এবং মার্কিন সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ন্যাটোকে ‘কাগজের বাঘ’ বলেও কটাক্ষ করেছিলেন।
এস এম/ ৪ মে ২০২৬









