আইন-আদালত

সুপ্রিম কোর্টে ভার্চুয়াল আদালত স্থগিত—নতুন নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বন্ধ কার্যক্রম

ঢাকা, ০৪ মে – দেশের সর্বোচ্চ বিচারালয় বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট -এর আপিল ও হাইকোর্ট বিভাগে চালু থাকা ভার্চুয়াল আদালতের কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। রোববার (৩ মে) জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়, যা বিচারাঙ্গনে নতুন আলোচনা তৈরি করেছে।

সুপ্রিম কোর্টের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার জেনারেল মুহাম্মদ নুরুল আমিন বিপ্লব -এর স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রধান বিচারপতির নির্দেশক্রমে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে। তবে কেন হঠাৎ করে ভার্চুয়াল আদালত বন্ধ করা হলো—সে বিষয়ে কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।

বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, আপিল ও হাইকোর্ট বিভাগের ভার্চুয়াল আদালতের কার্যক্রম ‘পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত’ স্থগিত থাকবে। অর্থাৎ, নতুন কোনো সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত এই ব্যবস্থায় বিচারকার্য চলবে না।

এর আগে গত ২০ এপ্রিল, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের কথা উল্লেখ করে সপ্তাহে দুই দিন—বুধবার ও বৃহস্পতিবার ভার্চুয়াল আদালত পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেয় সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন। সেই অনুযায়ী সীমিত পরিসরে ভার্চুয়াল শুনানি চালু ছিল।

তবে এই সিদ্ধান্তের পর থেকেই আইনজীবীদের একটি অংশ শারীরিক উপস্থিতিতে আদালত পরিচালনার দাবি জানিয়ে ধারাবাহিকভাবে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করে আসছিল। সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে কয়েক দফা বিক্ষোভও অনুষ্ঠিত হয়।

যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো কারণ উল্লেখ করা হয়নি, সংশ্লিষ্ট মহলের ধারণা—আইনজীবীদের চলমান আন্দোলন ও বাস্তবিক কার্যক্রম পরিচালনায় জটিলতাই এই সিদ্ধান্তের পেছনে ভূমিকা রাখতে পারে।

উল্লেখ্য, ভার্চুয়াল আদালত চালুর পর স্বল্প সময়েই উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মামলা নিষ্পত্তি হয়েছিল। মাত্র চার দিনে প্রায় ১,৮০০-র বেশি মামলা নিষ্পত্তির তথ্য বিচার বিভাগের দক্ষতার নতুন সম্ভাবনা দেখিয়েছিল।

ভার্চুয়াল আদালত স্থগিতের ফলে এখন আবার পুরোপুরি শারীরিক উপস্থিতিতে বিচার কার্যক্রম পরিচালনার সম্ভাবনা জোরালো হচ্ছে। তবে এটি স্থায়ী নাকি সাময়িক সিদ্ধান্ত—তা নির্ভর করছে ভবিষ্যতের নির্দেশনার ওপর।

ডিজিটাল বিচারব্যবস্থার দিকে এগিয়ে যাওয়া এবং বাস্তবতার চাপে ফিরে আসা—এই দুইয়ের টানাপোড়েনে দাঁড়িয়ে আছে দেশের বিচারব্যবস্থা। ভার্চুয়াল আদালত স্থগিতের এই সিদ্ধান্ত সেই দ্বন্দ্বকেই আরও স্পষ্ট করে তুলেছে।

এনএন/০৪ মে ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language