আইন-আদালত

হাইকোর্টে জামিন জালিয়াতি: কেএনএফের মামলার আসামির মুক্তিতে তদন্তের নির্দেশ

ঢাকা, ১ মে – হাইকোর্টে তথ্য গোপন ও জামিন আদেশে জালিয়াতির মাধ্যমে সশস্ত্র সংগঠন কুকি-চিন ন্যাশনাল ফ্রন্টের (কেএনএফ) পোশাক জব্দের মামলার প্রধান আসামি সাহেদুল ইসলাম কারামুক্ত হয়েছেন। চাঞ্চল্যকর এই জালিয়াতির ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী বিষয়টি তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল হাবিবুর রহমান সিদ্দিকীকে আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে।

অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল বুধবার এই জালিয়াতির বিষয়টি আদালতের নজরে আনেন। এরপরই অভিযোগটি আমলে নিয়ে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়।

বৃহস্পতিবার অ্যাটর্নি জেনারেল নিজে গণমাধ্যমকে এই খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান যে, তদন্ত প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে এবং এতে দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়েছে।

সূত্র মতে, হাইকোর্ট থেকে নেওয়া জামিন আদেশে দুই বিচারপতির স্বাক্ষরের পর তা কৌশলে বদলে ফেলা হয়। জালিয়াতির মাধ্যমে নতুন মামলার নম্বর ও থানার নাম বসিয়ে সেই ভুয়া জামিননামা কারা কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেওয়া হয়। সেই ভুয়া আদেশের ভিত্তিতেই চট্টগ্রামের রিংভো অ্যাপারেলসের মালিক সাহেদুল ইসলাম মুক্তি পান। প্রায় সাত মাস আগে এই জালিয়াতি ঘটলেও চলতি সপ্তাহে মামলার অন্য এক আসামি জামিন আবেদন করতে এলে বিষয়টি ধরা পড়ে।

কোর্ট প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, এই জালিয়াতির পেছনে হাইকোর্ট বিভাগের কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী জড়িত আছেন কি না তা গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আইনজীবীদের মতে, সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তাদের যোগসাজশ ছাড়া এত বড় জালিয়াতি করা অসম্ভব। এ বিষয়ে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

২০২৫ সালের ১৭ মে চট্টগ্রামের বায়েজিদ বোস্তামি এলাকায় সাহেদুল ইসলামের কারখানায় অভিযান চালিয়ে কেএনএফ-এর জন্য তৈরি ২০ হাজার ৩০০টি পোশাক উদ্ধার করা হয়। ওই ঘটনায় করা সন্ত্রাসবিরোধী মামলায় সাহেদুল ইসলামকে প্রধান আসামি করার পাশাপাশি পোশাক প্রস্তুতের ক্রয়াদেশ দেওয়া গোলাম আজম ও নিয়াজ হায়দারকেও আসামি করা হয়।

এনএন/ ১ মে ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language