আইন-আদালত

শাপলা চত্বর হত্যাকাণ্ড: তদন্ত শেষ পর্যায়ে, ৭ জুনের মধ্যে প্রতিবেদন

ঢাকা, ০৩ মে – ২০১৩ সালের ৫ মে রাজধানীর শাপলা চত্বর-এ হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের সমাবেশে সংঘটিত হত্যাযজ্ঞের ঘটনায় তদন্ত প্রায় শেষ করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-এর তদন্ত সংস্থা। আগামী ৭ জুনের মধ্যেই তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হবে বলে জানিয়েছেন চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম।

রোববার সকালে নিজ কার্যালয়ে গণমাধ্যমকে তিনি এ তথ্য জানান।

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, শাপলা চত্বরে ঘটনাস্থলেই ৩২ জন নিহত হওয়ার প্রমাণ পাওয়া গেছে। এছাড়া নারায়ণগঞ্জ ও চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আরও মৃত্যুর তথ্য মিলেছে।

তিনি দাবি করেন, “আমরা সব প্রমাণ পেয়েছি এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে পর্যাপ্ত তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে।”

তদন্তে পুলিশের সংশ্লিষ্ট সদস্যদের পাশাপাশি সরকারের ঊর্ধ্বতন পর্যায়ের ব্যক্তিদের সম্পৃক্ততার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে বলে জানান তিনি। এমনকি কিছু ব্যক্তির আর্থিক সহায়তার প্রমাণও তদন্তে উঠে এসেছে।

এছাড়া ছাত্রলীগ ও যুবলীগের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদেরও তদন্তের আওতায় আনা হবে বলে জানান চিফ প্রসিকিউটর।

এই ঘটনায় নিহতদের তথ্য সংগ্রহসহ বিভিন্ন প্রমাণ জোগাড় করতে গত এক থেকে দেড় বছর ধরে তদন্ত কার্যক্রম চালানো হয়েছে বলে জানান তিনি।

উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের ৫ মে রাতে মতিঝিলের শাপলা চত্বর এলাকায় হেফাজতে ইসলামের মহাসমাবেশ চলাকালে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে এ ঘটনা ঘটে।

অভিযোগ রয়েছে, রাত ১১টার পর বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে পুলিশ, র‍্যাব ও বিজিবি যৌথভাবে অভিযান চালায়। এতে সাউন্ড গ্রেনেড, গুলি ও লাঠিচার্জের মাধ্যমে সমাবেশ ছত্রভঙ্গ করা হয়।

এই মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহিউদ্দিন খান আলমগীর, তৎকালীন আইজিপি হাসান মাহমুদ খন্দকার, অতিরিক্ত আইজিপি শহীদুল হক, ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন, ডিএমপি কমিশনার বেনজীর আহমেদ এবং র‍্যাবের সাবেক কর্মকর্তা জিয়াউল আহসানসহ একাধিক ব্যক্তিকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

এছাড়া সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু এবং গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ইমরান এইচ সরকারসহ ১২ জন এই মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত আসামি। সব মিলিয়ে ২৫ জনের বেশি ব্যক্তি এ মামলার আসামি হিসেবে রয়েছেন।

দীর্ঘ এক দশকের বেশি সময় পর আলোচিত শাপলা চত্বর হত্যাকাণ্ডের তদন্ত শেষ পর্যায়ে পৌঁছানোকে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। এখন তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পর বিচারিক প্রক্রিয়া কীভাবে এগোয়, সেদিকেই নজর থাকবে সংশ্লিষ্ট মহলের।

এনএন/ ০৩ মে ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language