ইউরোপ

হরমুজ প্রণালি ও পারমাণবিক ইস্যুতে চাপ: ইরানকে জার্মানির কঠোর আহ্বান

বার্লিন, ০৩ মে – ইরানকে দ্রুত হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন জার্মানির পররাষ্ট্রমন্ত্রী জোহান ওয়াডেফুল। একই সঙ্গে তিনি তেহরানকে তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করারও দাবি জানিয়েছেন। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার মধ্যে এই বক্তব্য নতুন করে কূটনৈতিক চাপ তৈরি করেছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় ওয়াডেফুল বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে জার্মানি একই অবস্থান ও লক্ষ্য ভাগ করে নেয়।

তিনি বলেন, ইরানকে অবশ্যই “সম্পূর্ণভাবে এবং যাচাইযোগ্যভাবে” পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচি ত্যাগ করতে হবে এবং একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালি অবিলম্বে উন্মুক্ত করতে হবে।

জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও জানান, এই অবস্থান যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর দাবির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

বিশ্ব বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে বৈশ্বিক তেল ও গ্যাস সরবরাহের বড় অংশ পরিবাহিত হয়। তাই এই জলপথে কোনো ধরনের বাধা সৃষ্টি হলে তা আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে সরাসরি প্রভাব ফেলে।

জার্মানির এই আহ্বান মূলত ওই কৌশলগত জলপথে স্থিতিশীলতা ফেরানোর ওপর জোর দিচ্ছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

এদিকে ইরান ইস্যুতে ইউরোপীয় মিত্রদের ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রেডরিখ মের্জ, স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ এবং ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের সমালোচনা করেন।

তার অভিযোগ, ইরান ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সরাসরি সংঘাতে ইউরোপীয় দেশগুলোর অনাগ্রহ কৌশলগত বিভাজন তৈরি করছে।

এর আগে জার্মান চ্যান্সেলরও ইরান যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে মন্তব্য করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, ইরানি নেতৃত্বের কাছে যুক্তরাষ্ট্রকে হেয় করা হচ্ছে এবং এতে ওয়াশিংটনের কৌশলগত অবস্থান দুর্বল হচ্ছে বলে প্রতীয়মান হয়।

বিশ্লেষকদের মতে, একদিকে হরমুজ প্রণালি নিয়ে চাপ, অন্যদিকে পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধের দাবি—সব মিলিয়ে ইরানের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ ক্রমেই বাড়ছে। তবে একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের অবস্থানগত পার্থক্যও কূটনৈতিক সমন্বয়কে জটিল করে তুলছে।

হরমুজ প্রণালি ও পারমাণবিক ইস্যু ঘিরে ইরান এখন বহুমুখী আন্তর্জাতিক চাপের মুখে। জার্মানির কঠোর আহ্বান এই উত্তেজনাকে আরও স্পষ্ট করেছে, যেখানে শান্তি প্রতিষ্ঠার চেয়ে কূটনৈতিক টানাপোড়েনই এখন বেশি দৃশ্যমান।

এনএন/ ০৩ মে ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language