উত্তর আমেরিকা

ইরান-সংঘাতে জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা: দাম বাড়লেও বছরের শেষে স্বস্তির আশা মার্কিন অর্থমন্ত্রীর

ওয়াশিংটন, ০৩ মে – ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান সংঘাত বিশ্ব জ্বালানি বাজারে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি করেছে। তবে বর্তমান দাম বৃদ্ধি সত্ত্বেও বছরের শেষ দিকে তেলের দাম কমে আসবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট।

রোববার মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজের বিজনেস নেটওয়ার্কের ‘সানডে মর্নিং ফিউচারস’ অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন।

মার্কিন অর্থমন্ত্রী বলেন, “এই সংঘাতের পরবর্তী পর্যায়ে তেলের দাম অনেক কমে যাবে।” তার মতে, বর্তমানে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে জ্বালানি বাজারে চাপ তৈরি হয়েছে, যার ফলেই দাম ঊর্ধ্বমুখী।

তিনি আরও বলেন, “সংঘাত চলমান থাকায় দাম বাড়ছে, কিন্তু পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে এটি আগের অবস্থায় ফিরে আসবে।”

আমেরিকান অটোমোবাইল অ্যাসোসিয়েশনের (এএএ) তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে গ্যাসোলিনের গড় দাম গত চার বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।

গত মঙ্গলবার খুচরা বাজারে গ্যাসোলিনের দাম ৭ সেন্ট বেড়ে প্রতি গ্যালন ৪ দশমিক ১৮ ডলারে দাঁড়িয়েছে, যা এক মাসের মধ্যে একদিনে সর্বোচ্চ বৃদ্ধি হিসেবে রেকর্ড হয়েছে। ফেব্রুয়ারির শেষ দিক থেকে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে গ্যাসোলিনের দাম প্রতি গ্যালনে ১ দশমিক ১৯ ডলার বা ৪০ শতাংশেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার কারণে হরমুজ প্রণালির মতো গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে জাহাজ চলাচল বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাস সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়।
ফলে বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থায় চাপ তৈরি হয়ে জ্বালানি ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

এনার্জি সার্ভিস ফার্ম বেকার হিউজ জানিয়েছে, মার্কিন জ্বালানি কোম্পানিগুলো টানা দ্বিতীয় সপ্তাহের মতো তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের খনন যন্ত্রের সংখ্যা বাড়িয়েছে। এটি গত মার্চের মাঝামাঝি সময়ের পর প্রথমবারের মতো ধারাবাহিক বৃদ্ধির ঘটনা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে সরাসরি অস্থিরতা সৃষ্টি করলেও যুক্তরাষ্ট্রের উৎপাদন বৃদ্ধির উদ্যোগ বাজারকে কিছুটা ভারসাম্যে রাখার চেষ্টা করছে। তবে সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে দাম আরও অনিশ্চিত হতে পারে।

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল উত্তেজনার প্রভাব বিশ্ব জ্বালানি বাজারে স্পষ্টভাবে অনুভূত হচ্ছে। আপাতত দাম বাড়লেও বছরের শেষ দিকে স্বস্তির ইঙ্গিত থাকলেও, পরিস্থিতির ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপর।

এনএন/ ০৩ মে ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language