টানা আট মাসের পতন ভেঙে রপ্তানিতে ঘুরে দাঁড়ালো বাংলাদেশ, এপ্রিলেই প্রবৃদ্ধি ৩২.৯২ শতাংশ

ঢাকা, ০৩ মে – টানা আট মাস ধরে নিম্নমুখী প্রবণতার পর অবশেষে ঘুরে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশের রপ্তানি খাত। চলতি বছরের এপ্রিলে রপ্তানি আয়ে শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে, যা দেশের অর্থনীতিতে নতুন করে স্বস্তির ইঙ্গিত দিচ্ছে।
রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) রোববার (৩ মে) প্রকাশিত তথ্যে জানিয়েছে, এপ্রিল মাসে দেশের রপ্তানি আয় বেড়েছে ৩২ দশমিক ৯২ শতাংশ।
ইপিবির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে যেখানে রপ্তানি আয় ছিল ৩ বিলিয়ন ডলার, সেখানে ২০২৬ সালের একই সময়ে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪ বিলিয়ন ডলারে। এই প্রবৃদ্ধি মূলত তৈরি পোশাক খাতের শক্তিশালী পারফরম্যান্সের ওপর ভর করে এসেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, বৈশ্বিক বাজারে চাহিদা বৃদ্ধি এবং বাংলাদেশের উৎপাদন সক্ষমতা পুনরুদ্ধারের ফলেই এই ইতিবাচক প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।
রপ্তানি আয়ের সবচেয়ে বড় অংশ আসে তৈরি পোশাক শিল্প থেকে। ইপিবির তথ্য অনুযায়ী, এপ্রিল মাসে এই খাত থেকে আয় হয়েছে ৩ দশমিক ১৪ বিলিয়ন ডলার, যা গত বছরের একই মাসের ২ দশমিক ৩৯ বিলিয়ন ডলারের তুলনায় ৩১ দশমিক ২১ শতাংশ বেশি। এই খাতের প্রবৃদ্ধিই মূলত সামগ্রিক রপ্তানি বৃদ্ধির প্রধান কারণ হিসেবে কাজ করেছে।
তবে সামগ্রিক চিত্র এখনো পুরোপুরি ইতিবাচক নয়। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই থেকে এপ্রিল পর্যন্ত সময়ে দেশের মোট রপ্তানি আয় ২ শতাংশ কমে ৩৯ দশমিক ৪০ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। আগের অর্থবছরের একই সময়ে এই আয় ছিল ৪০ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার।
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, মাসভিত্তিক প্রবৃদ্ধি ভালো সংকেত দিলেও দীর্ঘমেয়াদে রপ্তানি আয়ের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এখন বড় চ্যালেঞ্জ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এপ্রিলের এই প্রবৃদ্ধি রপ্তানি খাতের জন্য একটি ইতিবাচক মোড় হলেও এটিকে এখনই দীর্ঘমেয়াদি পুনরুদ্ধার বলা কঠিন। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, মুদ্রাস্ফীতি এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা এখনো বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে।
তবে তৈরি পোশাক খাতের শক্ত অবস্থান বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য এখনো প্রধান ভরসা হিসেবে কাজ করছে।
টানা পতনের পর এপ্রিল মাসে রপ্তানি আয়ের এই উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি অর্থনীতিতে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, এই গতি ধরে রাখতে হলে রপ্তানি বৈচিত্র্য বৃদ্ধি এবং নতুন বাজার অনুসন্ধান আরও জোরদার করা জরুরি।
এনএন/ ০৩ মে ২০২৬









