উত্তর আমেরিকা

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ: ৬০ দিনের আইনি সময়সীমা ও মার্কিন কংগ্রেসের দ্বিধা

ওয়াশিংটন, ২৯ এপ্রিল – যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাথে ইরানের চলমান সংঘাত যখন ৬০ দিনে পদার্পণ করছে, তখন মার্কিন কংগ্রেস এক ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে। ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযান নিয়ে কংগ্রেস কি তার সাংবিধানিক ক্ষমতা প্রয়োগ করবে নাকি আগের মতো নীরবতা পালন করবে, তা নিয়ে কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।

মার্কিন সংবিধান অনুযায়ী প্রেসিডেন্টের যুদ্ধ পরিচালনার ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট আইনি সীমাবদ্ধতা রয়েছে। ১৯৭৩ সালের ওয়ার পাওয়ার্স অ্যাক্ট মোতাবেক, কংগ্রেসের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন ছাড়া কোনো প্রেসিডেন্ট ৬০ দিনের বেশি সামরিক অভিযান চালিয়ে যেতে পারেন না। এই সময়সীমা পার হওয়ার পর অভিযান অব্যাহত রাখতে হলে কংগ্রেসের সবুজ সংকেত বাধ্যতামূলক।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে হামলা শুরুর দুই দিন পর ট্রাম্প প্রশাসন বিষয়টি কংগ্রেসকে জানিয়েছিল। সেই নিয়ম অনুযায়ী ১ মে এই ৬০ দিনের মেয়াদ শেষ হতে যাচ্ছে। অতীতে মার্কিন প্রেসিডেন্টরা প্রায়ই এই আইনি সীমাবদ্ধতা এড়িয়ে গেছেন এবং কংগ্রেসও অনেক সময় তা উপেক্ষা করেছে। তবে বর্তমান পরিস্থিতির ভয়াবহতা ও ব্যাপকতা ভিন্ন মাত্রা যোগ করেছে।

প্রজেক্ট অন গভর্নমেন্ট ওভারসাইট এর পরিচালক ডেভিড জানোভস্কি জানান, এখন বড় প্রশ্ন হলো কংগ্রেস কি এই যুদ্ধের দায়ভার গ্রহণ করতে প্রস্তুত? তারা কি প্রেসিডেন্টকে অভিযান বন্ধের নির্দেশ দেবে নাকি তদারকির মাধ্যমে যুদ্ধের বৈধতা নিশ্চিত করবে?

রিপাবলিকান দলের ভেতরেও এই যুদ্ধ নিয়ে বিভক্তি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সিনেটর লিসা মুরকোস্কি যুদ্ধের জন্য একটি অথোরাইজেশন ফর ইউজ অব মিলিটারি ফোর্স বা এইউএমএফ তৈরির চেষ্টা করছেন। এটি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ ঘোষণা না করেও সামরিক অভিযান চালিয়ে যাওয়ার আইনি ভিত্তি প্রদান করবে।

অন্যদিকে, থম টিলিস ও সুসান কলিন্সের মতো রিপাবলিকান সিনেটররা ১ মের পর যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। জন কার্টিস ও জেরি মোরানের মতো নেতারা ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় তথ্যের ঘাটতি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, ৬০ দিনের সময়সীমা পার হওয়ার পর কংগ্রেসের অনুমোদনহীন যুদ্ধ আইনিভাবে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে। যদিও প্রেসিডেন্ট সেনা প্রত্যাহারের জন্য অতিরিক্ত ৩০ দিন সময় চাইতে পারেন, কিন্তু সে সময় নতুন কোনো বড় হামলা চালানো সীমিত হয়ে পড়বে।

রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, আগামী নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে এই যুদ্ধ রিপাবলিকানদের জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তবে ট্রাম্পের কঠোর মনোভাবের কারণে অনেকেই প্রকাশ্যে মুখ খুলতে ভয় পাচ্ছেন।

শেষ পর্যন্ত কংগ্রেস হয়তো সরাসরি ভোট এড়িয়ে যাওয়ার কৌশল নিতে পারে, তবে তাদের এই অবস্থান ভবিষ্যতে যুদ্ধের আইনি বৈধতা নিয়ে বড় নজির হয়ে থাকবে।

এনএন/ ২৯ এপ্রিল ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language