মার্কিন নৌ অবরোধের কার্যকারিতা নিয়ে সাবেক রাষ্ট্রদূতের প্রশ্ন

ওয়াশিংটন, ২৪ এপ্রিল – যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত নৌ অবরোধ ইরানের ওপর কতটা কার্যকর হবে তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে এই অবরোধ সামরিক ও অর্থনৈতিকভাবে কঠোর হলেও ইরান দীর্ঘদিন ধরে তা মোকাবিলা করার প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে। এর ফলে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই চাপের প্রভাব উল্টো যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ওপর বেশি পড়তে পারে।
বাহরাইনে নিযুক্ত সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত অ্যাডাম এরেলি আল জাজিরার একটি অনুষ্ঠানে বলেন যে ইরানের জাহাজ আটকে দেওয়া এবং বন্দর অবরোধ করা নীতিগতভাবে ঠিক মনে হতে পারে। তবে বাস্তবে এই কৌশল কাঙ্ক্ষিত ফল দেবে এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই। তেহরান আগে থেকেই এ ধরনের পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে। এরেলি আরও জানান ইরান কেবল তেল উত্তোলনের ওপর নির্ভরশীল নয়। তারা বিকল্প উপায়ে তেল সংরক্ষণ ও রপ্তানির পথ তৈরি করেছে।
এমনকি তেল বিক্রি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেলেও ইরানের হাতে এমন ব্যবস্থা আছে যার মাধ্যমে তারা দীর্ঘ সময় টিকে থাকতে পারবে। বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরান অনেক বেশি সহনশীলতা দেখাতে পারে আর ডোনাল্ড ট্রাম্পের ধৈর্য ফুরিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
সাবেক এই রাষ্ট্রদূতের মতে বিষয়টি শুধু সামরিক কৌশলের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয় বরং যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির সঙ্গে এটি গভীরভাবে জড়িত। ট্রাম্প রাজনৈতিক জনমত এবং নির্বাচনী হাওয়ার প্রতি অত্যন্ত সংবেদনশীল। ফলে এখন ওয়াশিংটন ইরানকে চাপ দেওয়া এবং নির্বাচনী রাজনীতির হিসাবের মধ্যে এক ধরনের সংকটে রয়েছে। শেষ পর্যন্ত ট্রাম্পের নীতি নাকি রাজনৈতিক বাস্তবতা জয়ী হবে সেটিই এখন দেখার বিষয়।
এস এম/ ২৪ এপ্রিল ২০২৬









