ইরানে ক্ষমতার পালাবদল: মোজতবা খামেনির অনুপস্থিতিতে আইআরজিসির হাতে নিয়ন্ত্রণ

তেহরান, ২৪ এপ্রিল – ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ও ক্ষমতার কাঠামোয় বড় ধরনের পরিবর্তনের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। দেশটির প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব মোজতবা খামেনি গুরুতরভাবে আহত অবস্থায় থাকায় রাষ্ট্র পরিচালনার চাবিকাঠি এখন ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডস কর্পস বা আইআরজিসি এর শীর্ষ জেনারেলদের হাতে। নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন অনুসারে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি এক বিশেষ হামলায় মোজতবার পিতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হওয়ার সময় মোজতবা নিজেও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন।
বর্তমানে তিনি অত্যন্ত কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে আত্মগোপনে থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন। তার শারীরিক অবস্থা বেশ জটিল হওয়ায় কেবল নির্দিষ্ট চিকিৎসক দল ছাড়া আর কারো প্রবেশের অনুমতি নেই। এমনকি ইসরায়েলি হামলার আশঙ্কায় শীর্ষ নেতারাও তার সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাৎ এড়িয়ে চলছেন। ইরানের প্রেসিডেন্ট ও চিকিৎসক মাসুদ পেজেশকিয়ান স্বয়ং তার চিকিৎসার বিষয়গুলো তদারকি করছেন। মোজতবার একটি পায়ে কয়েক দফা অস্ত্রোপচার করতে হয়েছে এবং সেখানে কৃত্রিম অঙ্গ স্থাপনের সম্ভাবনা রয়েছে। তার মুখমণ্ডল ও ঠোঁট দগ্ধ হওয়ায় কথা বলার শক্তিও অনেকাংশে হারিয়েছেন।
বর্তমানে তিনি কোনো মৌখিক ভাষণ না দিয়ে কেবল লিখে তার নির্দেশনাগুলো প্রকাশ করছেন। এই পরিস্থিতির কারণে ইরানের প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে জেনারেলদের প্রভাব আকাশচুম্বী হয়ে উঠেছে। রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব আব্দোলরেজা দাভারির মতে, মোজতবা এখন অনেকটা বোর্ড চেয়ারম্যানের মতো কাজ করছেন আর জেনারেলরাই মূল নীতি নির্ধারণ করছেন।
ইরানের বর্তমান নির্বাচিত সরকার এখন মূলত অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা ও নিত্যপণ্যের সরবরাহ নিশ্চিত করতেই ব্যস্ত। পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রেও পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির তুলনায় সংসদের স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ বেশি শক্তিশালী হয়ে উঠেছেন। সব মিলিয়ে ইরানের ক্ষমতার ভারসাম্য এখন পুরোপুরি সামরিক শক্তির দিকে ঝুঁকে পড়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
এস এম/ ২৪ এপ্রিল ২০২৬









