জাতীয়

গুজব ও অপতথ্য ঠেকাতে সাইবার সুরক্ষা আইন সংশোধন করা হচ্ছে

ঢাকা, ৮ জুন – সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গুজব, অপতথ্য, মানহানিকর কনটেন্ট এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবহার করে তৈরি বিভ্রান্তিকর ছবি ও অডিও ভিডিও প্রতিরোধে সাইবার সুরক্ষা আইন সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

সোমবার জাতীয় সংসদে জরুরি জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে এক আলোচনার জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এই তথ্য জানান।

তিনি বলেন যে মেটাসহ আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি প্ল্যাটফর্মগুলোকে ক্ষতিকর কনটেন্ট অপসারণে নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে ব্যবস্থা নিতে বাধ্য করার বিধানও এই সংশোধনীতে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

সংসদ সদস্য হেলেন জেরিন খানের এক নোটিসের প্রেক্ষিতে মন্ত্রী বলেন যে বর্তমানে সাইবার স্পেসে ভুয়া আইডি, বট নেটওয়ার্ক এবং এআই দিয়ে তৈরি কনটেন্টের মাধ্যমে নারী ও শিশুদের হয়রানি করা হচ্ছে। এমনকি রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের বিরুদ্ধেও অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী উল্লেখ করেন যে স্বাধীনতার নামে বা মতপ্রকাশের স্বাধীনতার দোহাই দিয়ে যেসব ক্ষতিকর কনটেন্ট প্রকাশিত হচ্ছে, সেগুলোকে নতুন করে সংজ্ঞায়িত করার সময় এসেছে। তিনি জানান যে ইতিমধ্যে এই আইনি সংস্কারের খসড়া তৈরির কাজ শুরু হয়েছে এবং একে সাইবার সুরক্ষা আইন ২০২৬ হিসেবে অভিহিত করা হতে পারে।

সালাহউদ্দিন আহমদ আরও জানান যে বিটিআরসি বর্তমানে মেটার মতো প্ল্যাটফর্মগুলোকে অনুরোধ পাঠালেও আইনি বাধ্যবাধকতা না থাকায় অনেক সময় দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হয় না। প্রতিবেশী দেশগুলোতে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কনটেন্ট সরাতে বাধ্য করার আইন থাকলেও বাংলাদেশে সেই অভাব রয়েছে।

নতুন আইনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি বিটিআরসি এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে ক্ষতিকর কনটেন্ট ব্লক বা অপসারণের সুনির্দিষ্ট ক্ষমতা প্রদান করা হবে। পাশাপাশি দেশে প্রচলিত ১৮৬৭ সালের পুরনো জুয়া আইন পরিবর্তন করে অনলাইন ও অফলাইন জুয়া প্রতিরোধে নতুন আইন পাসের প্রক্রিয়াও চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

এছাড়া মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরকে আধুনিকায়ন করতে এবং কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করতে মাদক নিয়ন্ত্রণ আইন সংশোধনের প্রস্তাবও সংসদে উত্থাপন করা হবে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

এনএন/ ৮ জুন ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language