ইরানি কূটনীতিকদের রক্ষায় পাকিস্তানের নজিরবিহীন বিমান পাহারা

ইসলামাবাদ, ১৮ এপ্রিল – টানা ৩৯ দিনের রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পর গত ৮ এপ্রিল ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছিল। এই সমঝোতার ধারাবাহিকতায় গত ১১ এপ্রিল পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে দুই দেশের প্রতিনিধিরা শান্তি আলোচনায় অংশ নেন। তবে দীর্ঘ ২১ ঘণ্টার ম্যারাথন আলোচনার পরও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয় উভয় পক্ষ। আলোচনা শেষে মার্কিন প্রতিনিধিদল ইসলামাবাদ ত্যাগ করার পর ইরানি কূটনীতিকদের মধ্যে বড় ধরনের নিরাপত্তা শঙ্কা তৈরি হয়।
রয়টার্স জানিয়েছে, ইরানি কূটনীতিকদের আশঙ্কা ছিল যে তারা দেশে ফেরার পথে ইসরায়েলি বিমান হামলার শিকার হতে পারেন। এই প্রেক্ষাপটে পাকিস্তানের বিমানবাহিনী নজিরবিহীন এক নিরাপত্তা ব্যবস্থার আয়োজন করে। প্রায় দুই ডজন যুদ্ধবিমান ইরানি প্রতিনিধিদের বহনকারী বিমানটিকে চারপাশ থেকে ঘিরে রেখে নিরাপদে পৌঁছে দেয়। এই বহরে চীনের তৈরি অত্যাধুনিক জে-১০ যুদ্ধবিমানও অন্তর্ভুক্ত ছিল।
নিরাপত্তা সূত্রগুলো জানিয়েছে, পাকিস্তান বিমানবাহিনী শুধুমাত্র যুদ্ধবিমানই মোতায়েন করেনি, বরং তাদের এয়ারবোর্ন ওয়ার্নিং অ্যান্ড কন্ট্রোল সিস্টেম বা বিশেষ রাডার ব্যবস্থার মাধ্যমে পুরো আকাশপথ নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেছিল। যদিও ইরান আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো নিরাপত্তার আবেদন করেনি, তবে তাদের সম্ভাব্য হুমকির বার্তার পর পাকিস্তানই এই কঠোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেয়।
ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত এই শান্তি আলোচনায় ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এবং পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। উল্লেখ্য যে গালিবাফ একজন প্রশিক্ষিত পাইলট এবং সাবেক সামরিক কর্মকর্তা। আঞ্চলিক কূটনীতিকদের মতে, ইসরায়েলের হামলার তালিকায় থাকা এই শীর্ষ নেতাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পাকিস্তান অত্যন্ত সতর্ক ছিল।
এমনকি পাকিস্তান যুক্তরাষ্ট্রের মাধ্যমে ইসরায়েলকে বার্তা দিয়ে এই তালিকা থেকে তাদের নাম বাদ দেওয়ারও উদ্যোগ নিয়েছিল। পাকিস্তানের যুক্তি ছিল, আলোচনার পথ খোলা রাখতে এই প্রতিনিধিদের জীবন রক্ষা করা অত্যন্ত জরুরি। যদিও ইসরায়েল বা মার্কিন দূতাবাস এই অভিযান নিয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য করেনি তবে এই ঘটনাটি আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে এক বিরল দৃষ্টান্ত হয়ে রইল।
এস এম/ ১৮ এপ্রিল ২০২৬









