তীব্র গরমে ঘনঘন লোডশেডিং: বিদ্যুৎ সংকটে অন্ধকারে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের প্রস্তুতি

চট্টগ্রাম, ১৮ এপ্রিল – দেশে বিদ্যমান জ্বালানি সংকটের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বৈশাখের প্রচণ্ড দাবদাহ। এমন প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেই আগামী মঙ্গলবার ২১ এপ্রিল থেকে শুরু হতে যাচ্ছে ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষা। তবে দেশজুড়ে চলমান তীব্র লোডশেডিংয়ের কারণে পরীক্ষার শেষ মুহূর্তের চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিতে গিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছে শিক্ষার্থীরা।
বিশেষ করে রাতে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় পড়াশোনার স্বাভাবিক পরিবেশ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। শহর থেকে গ্রাম সবখানেই এখন লোডশেডিংয়ের দাপট লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড সূত্রে জানা গেছে যে এবারের এসএসসি পরীক্ষায় মোট ১ লাখ ৩০ হাজার ৬৬৮ জন শিক্ষার্থী অংশ নিচ্ছে। এর মধ্যে ছাত্র সংখ্যা ৫৬ হাজার ৩২৫ জন এবং ছাত্রী ৭৪ হাজার ৩৪৩ জন। কেবল চট্টগ্রাম জেলা থেকেই পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে ৯২ হাজার ২৯৬ জন শিক্ষার্থী। পরীক্ষার্থীদের এই বিশাল অংশটি এখন নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুতের অভাবে পড়াশোনায় মনোযোগ দিতে পারছে না।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ অনুযায়ী সন্ধ্যা ও রাতে পড়ার মূল সময়েই লোডশেডিং বেশি হচ্ছে। অনেক এলাকায় দিনে ৬ থেকে ৭ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ থাকছে না। এতে অনলাইন ক্লাস ও নিয়মিত পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।
নগরীর অপর্ণাচরণ সিটি করপোরেশন বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নাছরিন জানায় যে রাতে পড়তে বসলেই বিদ্যুৎ চলে যায় এবং অসহ্য গরমে পড়াশোনায় মন দেওয়া অসম্ভব হয়ে পড়ে। একই সমস্যার কথা জানিয়েছে চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার শিক্ষার্থী রিজভী। অভিভাবকরা এই পরিস্থিতি নিয়ে চরম উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন যে পরীক্ষার এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে বিদ্যুতের এমন সংকট ফলাফলে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে যে চট্টগ্রামের ২৮টি বিদ্যুৎকেন্দ্রের মধ্যে বর্তমানে ১০টিই বন্ধ রয়েছে। জ্বালানি সংকট ও গ্যাস সরবরাহ কমে যাওয়ার কারণে এনলিমা, জুডিয়াক, জুলধা এবং রাউজানসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র থেকে উৎপাদন বন্ধ রয়েছে।
পিডিবির চট্টগ্রাম স্কাডা বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী ফাহমিদা জামান জানান যে চাহিদার বিপরীতে উৎপাদন কম হওয়ায় সাময়িকভাবে এই লোডশেডিং করতে হচ্ছে।
এনএন/ ১৮ এপ্রিল ২০২৬









