মধ্যপ্রাচ্য

পারস্য উপসাগরে কেন এত তেল ও গ্যাস: নেপথ্যের চাঞ্চল্যকর ভূতাত্ত্বিক কারণ

রিয়াদ, ১৭ এপ্রিল – মধ্যপ্রাচ্যের পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোর বিশাল তেল ও গ্যাস সম্পদ একই সাথে আশীর্বাদ এবং ব্যাপক পরীক্ষার মুখোমুখি করেছে। লক্ষ লক্ষ বছর ধরে চলা ভূতাত্ত্বিক প্রক্রিয়ার ফলে এই অঞ্চলটি বৈশ্বিক জ্বালানি কেন্দ্রে রূপান্তরিত হয়েছে। আধুনিক ভূতাত্ত্বিক বিজ্ঞানের আলোকে এই অঞ্চলে হাইড্রোকার্বন মজুতের অবিশ্বাস্য ব্যাপকতা গবেষকদের প্রতিনিয়ত অবাক করে। পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে ৩০টিরও বেশি সুপারজায়ান্ট তেল সমৃদ্ধ এলাকা রয়েছে যার প্রতিটিতে অন্তত পাঁচশ কোটি ব্যারেল অপরিশোধিত তেল বিদ্যমান।

এখানকার তেলকূপগুলোতে প্রতিদিন যে পরিমাণ তেল উৎপাদিত হয় তা উত্তর সাগর বা রাশিয়ার শীর্ষ তেলকূপগুলোর উৎপাদনের তুলনায় দুই থেকে পাঁচ গুণ বেশি। হাইড্রোকার্বন উৎপাদন এবং সেটি জমা রাখার বিশেষ সক্ষমতা এই অঞ্চলকে অনন্য করে তুলেছে। প্রায় ১৪ হাজার থেকে ছয় হাজার বছর আগে বন্যার ফলে পারস্য উপসাগর গঠিত হওয়ার সময় থেকেই মানুষ হাইড্রোকার্বনের উপস্থিতি সম্পর্কে জানতে পারে। ১৯০৮ সালে পশ্চিম ইরানে আধুনিক যুগের প্রথম তেলের সন্ধান পাওয়ার পর থেকে এই অঞ্চলের প্রাধান্য স্পষ্ট হতে শুরু করে।

পারস্য উপসাগর মূলত অ্যারাবিয়ান এবং ইউরেশীয় টেকটোনিক প্লেটের মুখোমুখি সংঘর্ষের ফলে তৈরি এক গতিশীল ভূপ্রকৃতির ওপর অবস্থিত। প্রায় সাড়ে তিন কোটি বছর ধরে চলা এই সংঘর্ষের প্রভাবে ভূগর্ভের তীব্র তাপ ও চাপে শিলাস্তরগুলো রূপান্তরিত হয়ে বিশাল গম্বুজ আকৃতির কাঠামো তৈরি করেছে। এই কাঠামোসমূহ হাইড্রোকার্বন আটকে রাখা ও সংরক্ষণের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। ভূতাত্ত্বিকদের মতে সামুদ্রিক অণুজীবের জৈব পদার্থ থেকে এই অপরিশোধিত তেল ও গ্যাস তৈরি হয়েছে।

পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের শিলাস্তরে জৈব পদার্থের পরিমাণ এক থেকে ১৩ শতাংশ পর্যন্ত যা তেল উৎপাদনের জন্য অত্যন্ত উচ্চমানের। সৌদি আরবের ঘাওয়ার তেলক্ষেত্র যা বিশ্বের বৃহত্তম হিসেবে পরিচিত সেখান থেকে ৭০ বিলিয়ন ব্যারেলের বেশি তেল উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া সাউথ পার্স নর্থ ডোম গ্যাসক্ষেত্র থেকে অন্তত ৪৬ বিলিয়ন ঘনমিটার গ্যাস পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে যা শক্তির বিচারে দুইশ বিলিয়ন ব্যারেল তেলের সমান। যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার মতে এক শতাব্দীর বেশি সময় ধরে উৎপাদন চলার পরেও এই অঞ্চলে আরও বিশাল তেলের ভাণ্ডার আবিষ্কৃত হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে।

এস এম/ ১৭ এপ্রিল ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language