মধ্যপ্রাচ্য

১০০ বিলিয়ন ডলার অর্থ ছাড়ের দাবিতে অনড় অবস্থানে ইরান

তেহরান, ১৬ এপ্রিল – ইরান সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে বিদেশের বিভিন্ন ব্যাংকে তাদের ১০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারেরও বেশি অর্থ আটকে আছে। এই বিশাল অংকের অর্থ ছাড়ের জন্য তেহরান সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি জোরালো দাবি জানিয়েছে। পারমাণবিক চুক্তি নিয়ে নতুন করে কোনো আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হওয়ার আগে এই বিষয়টি নিষ্পত্তি হওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছে দেশটি। ইরানের দাবি অনুযায়ী ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর থেকে দেশটির ওপর বিভিন্ন সময়ে নানা আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।

মূলত পারমাণবিক কর্মসূচি ও ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির অভিযোগ তুলে এই নিষেধাজ্ঞাগুলো আরও কঠোরতর হয়। এতে করে দেশটির তেল ও তেলজাত পণ্য বিক্রির আয়ের বিপুল অর্থ আন্তর্জাতিক ব্যাংকিং চ্যানেলে আটকা পড়ে যায়। বিভিন্ন দেশের ব্যাংকে গচ্ছিত এই অর্থের একটি খতিয়ান থেকে জানা যায় যে বর্তমানে চীনের ব্যাংকে ইরানের প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলার জমা আছে। এ ছাড়াও ভারতে ৭ বিলিয়ন ডলার এবং প্রতিবেশী দেশ ইরাকে ৬ বিলিয়ন ডলার আটকা পড়েছে।

জাপানে প্রায় দেড় বিলিয়ন ও খোদ যুক্তরাষ্ট্রে ২ বিলিয়ন ডলারের বেশি পাওনা রয়েছে দেশটির। ইউরোপের দেশ লুক্সেমবার্গে আটকা আছে ১ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার। এর আগে দক্ষিণ কোরিয়া থেকে কাতারের ব্যাংকে স্থানান্তরিত হওয়া প্রায় ৬ বিলিয়ন ডলারও মার্কিন হস্তক্ষেপে ব্যবহারের সুযোগ হারাচ্ছে ইরান।

ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ এই বিষয়ে কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে জানিয়েছেন যে অর্থ ফেরত না পেলে কোনো ধরনের আন্তর্জাতিক আলোচনায় সুফল আসবে না। অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন দীর্ঘস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়ে ইরানের স্থানীয় মুদ্রা রিয়ালের মান ব্যাপক হারে হ্রাস পেয়েছে। এই আটকে থাকা অর্থ ছাড় পেলে দেশটি বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে পুনরায় নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেতে পারে যা বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এস এম/ ১৬ এপ্রিল ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language