যুক্তরাষ্ট্রের কাছে যুদ্ধকালীন আর্থিক সহায়তা চাইল আরব আমিরাত

দুবাই, ২০ এপ্রিল – ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান সংঘাতের জেরে সম্ভাব্য অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রের কাছে যুদ্ধকালীন আর্থিক সহায়তা চেয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, উপসাগরীয় অঞ্চলের এই দেশটি উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইতোমধ্যে ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছে। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে শুরু হওয়া এই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে জরুরি তারল্য সহায়তা, তেলের বাজার স্থিতিশীল রাখার কৌশল এবং সংঘাতের কারণে সৃষ্ট দীর্ঘস্থায়ী বিপর্যয় থেকে আমিরাতের অর্থনীতিকে রক্ষা করার জন্য সরাসরি আর্থিক নিশ্চয়তা।
এই অঞ্চলের জ্বালানি বাজারের অস্থিরতার প্রতি সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর অন্যতম সংযুক্ত আরব আমিরাত। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানের ধারাবাহিক বিমান হামলার সরাসরি প্রভাবের সম্মুখীন হয়েছে দেশটি। বিশেষ করে অ্যাডনকের হাবশান গ্যাস স্থাপনায় অগ্নিকাণ্ড এবং উপসাগরজুড়ে একাধিক ড্রোন হামলার পর জ্বালানি অবকাঠামোর সুরক্ষা নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। আলোচনার সাথে পরিচিত সূত্রগুলো জানিয়েছে যে আবুধাবি ওয়াশিংটনের কাছ থেকে হরমুজ প্রণালীর সম্ভাব্য অচলাবস্থা বা বিশ্বব্যাপী তেলের দামে আকস্মিক উল্লম্ফন থেকে সুরক্ষার আশ্বাস চাইছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের অর্থনীতি মূলত জ্বালানি রফতানি, বিদেশি বিনিয়োগ এবং পর্যটনের উপর নির্ভরশীল। ফলে এই সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে দেশটি উল্লেখযোগ্য চাপের মুখে পড়তে পারে। যদিও দেশটির শক্তিশালী আর্থিক রিজার্ভ রয়েছে, তবে কর্মকর্তারা বিনিয়োগকারীদের আস্থা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে যুক্তরাষ্ট্র সমর্থিত একটি সুস্পষ্ট সুরক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে আগ্রহী। এই আলোচনার খবর এমন এক সময়ে এসেছে যখন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প উপসাগরীয় দেশগুলোকে তাদের নিজস্ব সামুদ্রিক নিরাপত্তার জন্য আরও বেশি দায়িত্ব নিতে আহ্বান জানিয়েছেন।
একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের মধ্যে একটি সম্ভাব্য ৪৫ দিনের যুদ্ধবিরতি নিয়েও গোপন আলোচনা চলছে বলে জানা গেছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে সংযুক্ত আরব আমিরাতের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এই আলোচনাকে আতঙ্কের লক্ষণ না বলে বিচক্ষণ আপৎকালীন পরিকল্পনা হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি জানান যে সব ধরনের পরিস্থিতির জন্য তারা প্রস্তুতি নিচ্ছেন। অন্যদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতি প্রধান কাজা কাল্লাস সতর্ক করেছেন যে ইরানকে হরমুজ প্রণালী নিয়ন্ত্রণ করতে দেওয়া বৈশ্বিক নিরাপত্তার জন্য একটি বিপজ্জনক পথ তৈরি করবে। যদিও এই আর্থিক সহায়তার সঠিক পরিমাণ সম্পর্কে এখনও কিছু জানা যায়নি, তবে উভয় সরকারের ঊর্ধ্বতন পর্যায়ে এই আলোচনা গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে।
এস এম/ ২০ এপ্রিল ২০২৬









