ঢাকার লেকগুলো এখন বিষাক্ত ভাগাড়, বিপর্যস্ত জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশ

ঢাকা, ১৭ এপ্রিল – রাজধানীর একসময়ের নয়নাভিরাম লেকগুলো এখন ময়লা-আবর্জনার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। দূষণে বিপর্যস্ত এসব জলাশয় এখন মশা-মাছির প্রজননস্থল এবং উৎকট দুর্গন্ধের উৎসে পরিণত হয়েছে। নাগরিকদের প্রশান্তির বদলে ঢাকার লেকগুলো এখন জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে, যা নানা ধরনের মরণব্যাধির ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলছে। মূলত বিষাক্ত বর্জ্য, দখল আর অনিয়ন্ত্রিত বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ডের কারণে এসব জলাশয় ক্রমশ প্রাণহীন হয়ে পড়ছে।
গুলশান, বনানী ও বারিধারার মতো অভিজাত এলাকায় অবস্থিত গুলশান-বনানী লেকটি ২০০১ সালে প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা হিসেবে ঘোষিত হলেও গত আড়াই দশকেও পরিস্থিতির কোনো উন্নতি হয়নি। লেকের পানির ওপর ময়লার পুরু স্তর জমেছে এবং পচা বর্জ্যের গন্ধে অতিষ্ঠ স্থানীয় বাসিন্দারা দুর্গন্ধের হাত থেকে বাঁচতে দরজা-জানালা বন্ধ রাখতে বাধ্য হচ্ছেন। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের মতে, অত্যন্ত দূষিত হিসেবে পরিচিত বিদেশের অনেক নদীর তুলনায় ঢাকার লেকের অবস্থা শোচনীয়।
ধানমন্ডি লেকের প্রতি কেজি পলিতে মাইক্রোপ্লাস্টিকের পরিমাণ প্রায় ৩০ হাজারটি পাওয়া গেছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক। স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় ও বুয়েটের পৃথক গবেষণায় দেখা গেছে, গুলশান ও হাতিরঝিল লেকের পানিতে অক্সিজেন ও দ্রবীভূত পদার্থের মাত্রা নির্ধারিত মানদণ্ডের চেয়ে অনেক নিচে। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের তথ্যানুসারে, লেকের আশপাশের প্রায় ৮৫ শতাংশ বাড়ির সুয়ারেজ লাইন সরাসরি লেকের সাথে যুক্ত করা হয়েছে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, এই দূষিত পানি খাদ্যশৃঙ্খলে প্রবেশ করছে এবং শ্বাসতন্ত্রের রোগসহ নানা জটিলতা তৈরি করছে। ধানমন্ডি লেকেও অতিরিক্ত বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ও মেলার আয়োজনের ফলে পরিবেশের চরম অবনতি ঘটেছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, পয়ঃবর্জ্যের সঠিক ব্যবস্থাপনা এবং সচেতনতা ছাড়া এই প্রাকৃতিক সম্পদগুলো রক্ষা করা সম্ভব নয়। রাজউকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, সুয়ারেজ সংযোগ বিচ্ছিন্ন না করতে পারা এবং সঠিক রক্ষণাবেক্ষণের অভাবেই ঢাকার লেকগুলো এখন অস্তিত্ব সংকটে ভুগছে।
এস এম/ ১৭ এপ্রিল ২০২৬









