জাতীয়

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচার ও অশ্লীলতা: হুমকির মুখে নৈতিক মূল্যবোধ

ঢাকা, ১৭ এপ্রিল – সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বর্তমান সময়ে ব্যক্তিগত আক্রমণ, অশ্লীল মন্তব্য এবং ভুয়া তথ্য প্রচারের প্রবণতা আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ থেকে শুরু করে রাষ্ট্রের উচ্চপদস্থ ব্যক্তি এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যরাও এই নেতিবাচক প্রচারণার হাত থেকে রেহাই পাচ্ছেন না। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, টিকটক ও ইউটিউবের মতো প্ল্যাটফর্মগুলোতে ছড়িয়ে পড়া কুরুচিপূর্ণ ভিডিও এবং মন্তব্য সমাজের নৈতিক অবক্ষয়কে ত্বরান্বিত করছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক প্রশ্রয়ে সক্রিয় বট বাহিনীর মাধ্যমে গালাগালকে বাকস্বাধীনতার আড়ালে ঢাকার চেষ্টা চলছে, যা সুস্থ ধারার আলোচনাকে বাধাগ্রস্ত করছে।

সম্প্রতি নাসার নারী নভোচারী ক্রিশ্চিনা কোচকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য এবং দেশের রাজনৈতিক ব্যক্তিদের চরিত্রহননের মতো ঘটনাগুলো এই চরম অবক্ষয়ের উদাহরণ হিসেবে সামনে এসেছে। গবেষক মহিউদ্দিন আহমদ সামাজিক মাধ্যমের বর্তমান পরিস্থিতিকে মূর্খ ও উগ্রপন্থীদের দখলে চলে যাওয়া বলে অভিহিত করেছেন। এদিকে তথ্য যাচাইকারী প্রতিষ্ঠান রিউমার স্ক্যানার বাংলাদেশের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালের প্রথম তিন মাসে ভুল তথ্য ছড়ানোর হার গত বছরের তুলনায় প্রায় ১৩৬ শতাংশ বেড়েছে। এই পরিস্থিতির জন্য জাতীয় নির্বাচন ও বিভিন্ন রাজনৈতিক ইস্যুকে দায়ী করা হচ্ছে।

সাংবাদিক আমীন আল রশীদ মনে করেন, গঠনমূলক সমালোচনা অবশ্যই বাকস্বাধীনতার অংশ কিন্তু ব্যক্তিগত আক্রমণ বা অশ্লীলতা কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক ড. শাহ কাওসার মুস্তাফা আবুলউলায়ী বলেন, এই অশুভ চর্চা জাতিকে নৈতিকভাবে নিম্নগামী করছে। জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনজিল মোরশেদ জানিয়েছেন, ডিজিটাল মাধ্যমে মানহানি বা অপপ্রচারের বিরুদ্ধে আইনি প্রতিকারের ব্যবস্থা থাকলেও ফেক আইডি বা বট বাহিনীর কারণে অনেক ক্ষেত্রে ব্যবস্থা নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে। এই সঙ্কট নিরসনে সমাজচিন্তাবিদদের এগিয়ে আসার পাশাপাশি সাধারণ ব্যবহারকারীদের সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

এস এম/ ১৭ এপ্রিল ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language