সাত শর্ত পূরণ না হলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা নয়, নতুন পারমাণবিক প্রস্তাব ইরানের

তেহরান,০৬ নভেম্বর-কাতারের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে নতুন একটি পারমাণবিক প্রস্তাব পাঠিয়েছে ইরান। তবে তেহরানের দেওয়া বিশেষ সাতটি শর্ত যুক্তরাষ্ট্র আগে পূরণ করলেই কেবল এই প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হতে পারে। বৃহস্পতিবার রয়টার্সকে এ তথ্য জানিয়েছেন ইরানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই কর্মকর্তা জানান, প্রস্তাবটি ইতিমধ্যে পর্যালোচনার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পাঠানো হয়েছে। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত আর কোনো তথ্য জানাতে রাজি হননি তিনি।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান যুদ্ধ আবার পূর্ণমাত্রায় শুরু হতে পারে—এমন আশঙ্কার মধ্যে যুদ্ধবিরতি বজায় রাখা ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় মধ্যস্থতাকারীরা জোর কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু করেছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত মঙ্গলবার এক বক্তব্যে নির্বাচনের পর আবার সামরিক অভিযান শুরুর সম্ভাবনা নাকচ করেননি। অন্যদিকে যুদ্ধ নতুন করে শুরু হলে আরও বড় পরিসরে ভয়াবহ পাল্টা হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে ইরান।
এর আগে বৃহস্পতিবার রাশিয়া সফরের সময় ইরানের শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা মহসেন রেজাই দেশটির অবস্থান স্পষ্ট করেন। তিনি বলেন, কূটনৈতিক আলোচনার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ইরান সাতটি শর্ত দিয়েছে। যতক্ষণ না যুক্তরাষ্ট্র এসব শর্ত বাস্তবায়ন করছে, ততক্ষণ হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া হবে না এবং কোনো আলোচনাতেও বসবে না তেহরান।
ইরানের দেওয়া শর্তগুলোর মধ্যে প্রধান বিষয় হলো যুক্তরাষ্ট্রের সব নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া, বিভিন্ন দেশে আটকে থাকা বা জব্দ করা ইরানের সম্পদ মুক্ত করা এবং যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতির জন্য ক্ষতিপূরণ দেওয়া। অন্যদিকে ওয়াশিংটন শুরু থেকেই বলে আসছে, যেকোনো প্রাথমিক আলোচনায় পারমাণবিক ইস্যু অবশ্যই অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে হামলা চালায়। এর জবাবে ইরানও সরাসরি ইসরায়েল এবং পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়। এরপর মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে দ্রুত যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ে। লেবাননে ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর সঙ্গে ইসরায়েলের তীব্র সংঘর্ষ শুরু হয়। সম্প্রতি এই সংঘাত ইয়েমেন পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে। ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি কেন্দ্র, বিমানবন্দর ও অন্যান্য স্থাপনায় হামলা চালিয়ে আসছে।
এস এম/ ০৬ নভেম্বর ২০২৬







