হরমুজ প্রণালিতে ৪ দেশের জাহাজে ইরানের বিশেষ ছাড়

তেহরান, ০৬ নভেম্বর – মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান সামরিক উত্তেজনার মধ্যেই কৌশলগতভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের বিধিনিষেধ থেকে চার দেশের বাণিজ্যিক জাহাজকে ছাড় দিয়েছে ইরান। দেশগুলো হলো ভারত, চীন, ইরাক ও কাতার। তবে এই ছাড় একেবারেই ‘বিনামূল্যে পারাপার’ নয়—ভারত ও চীনের জাহাজকে পারাপারের জন্য এখনো নির্ধারিত শুল্ক বা ফি গুণতে হচ্ছে বলে নিশ্চিত করেছে তেহরান।
ইরানের ভূ-রাজনৈতিক হিসাব ও অর্থনৈতিক কৌশল
ভারতের সংবাদমাধ্যম এবং ইরানের আধা-সরকারি সংস্থা আইএসএনএ-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইরানের পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতি কমিটির উপপ্রধান আমির হায়াত মোগাদ্দাম এই সিদ্ধান্তের পেছনের মূল কারণ ও হিসাব-নিকাশ উন্মোচন করেছেন:
ভারতকে ছাড় ও ওষুধ আমদানির শর্ত:
কঠিন মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ও নৌ-অবরোধের মধ্যে ইরানের জন্য ওষুধ একটি অত্যন্ত জরুরি জীবন রক্ষাকারী পণ্য। ভারত হলো ইরানের জন্য ওষুধের অন্যতম প্রধান সরবরাহকারী। তেহরান চায় ভারতীয় বাণিজ্যিক জাহাজ সচল রেখে দেশটি থেকে নিরবচ্ছিন্নভাবে ওষুধ ও চিকিৎসাসামগ্রী আমদানি বজায় রাখতে।
চীন ও কাতারের কৌশলগত সমীকরণ:
চীন হচ্ছে ইরানি তেলের প্রধান ক্রেতা এবং জাতিসংঘের মতো বিশ্বমঞ্চে তেহরানের বড় রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক শক্তি। বেইজিংয়ের এই সমর্থন ধরে রাখতে চীনা জাহাজগুলোকে চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, বিশ্বের অন্যতম প্রধান তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) রপ্তানিকারক দেশ কাতারকে দেওয়া হয়েছে সম্পূর্ণ বিনাশুল্কে পারাপারের সুবিধা।
ফি প্রদান ও বাণিজ্যে বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা:
ইরানি আইনপ্রণেতা স্পষ্ট করেছেন যে কাতার ছাড় পেলেও ভারত ও চীনের জাহাজগুলোকে নির্ধারিত পারাপার ফি পরিশোধ করেই সমুদ্রপথ ব্যবহার করতে হচ্ছে (ইরাকের ক্ষেত্রে শুল্ক আছে কি না তা স্পষ্ট করা হয়নি)। এছাড়া, কেবল নির্দিষ্ট চার দেশকে বাছাই করে এই সুযোগ দেওয়ায় বিশ্ব সমুদ্রবাণিজ্যের বাকি অংশ এবং আন্তর্জাতিক তেল সরবরাহে অনিশ্চয়তা ও জ্বালানি মূল্যের অস্থিরতা এখনো কাটেনি।
বিশ্বের সমুদ্রপথে পরিবাহিত তেলের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ যে হরমুজ প্রণালি দিয়ে যায়, সেখানে এই চতুর চালের মাধ্যমে ইরান একদিকে নিজেদের অর্থনীতি ও বন্ধু রাষ্ট্রগুলোর স্বার্থ রক্ষা করছে, অন্যদিকে বিশ্ব বাণিজ্য পথের চাবিকাঠি যে তাদের হাতেই—সেটিই স্পষ্ট করে দিচ্ছে।
এনএন/ ০৬ নভেম্বর ২০২৬







