চলতি অর্থবছরের প্রথম ৪ মাসে রপ্তানি আয়ে নতুন জোয়ার, দ্রুত বাড়ছে ৫ অপ্রচলিত খাত

ঢাকা, ০৫ নভেম্বর – তৈরি পোশাক খাতের বাইরেও বাংলাদেশ এখন রপ্তানি আয়ে বৈচিত্র্য ও বড় ধরনের অগ্রগতি প্রত্যক্ষ করছে। ওষুধ, পাট, চামড়া, বিশেষায়িত বস্ত্র এবং প্রকৌশল পণ্যের মতো অপ্রচলিত খাতগুলোতে অব্যাহত প্রবৃদ্ধি দেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে তৈরি পোশাকের ওপর একক নির্ভরতা কমানোর উজ্জ্বল সম্ভাবনা তৈরি করেছে।
খাতভিত্তিক রপ্তানি আয় ও সম্ভাবনার চিত্র
রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) সর্বশেষ প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জুলাই-অক্টোবর (প্রথম চার মাস) সময়ে দেশের মোট রপ্তানি আয় আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ৫.৮৮ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১,৭০৯ কোটি (১৭.০৯ বিলিয়ন) মার্কিন ডলারে। এর মধ্যে শীর্ষ পাঁচটি অপ্রচলিত খাতের প্রবৃদ্ধি সামগ্রিক প্রবৃদ্ধির হারকে ছাড়িয়ে গেছে:
রাসায়নিক ও ওষুধশিল্পে ২৭% প্রবৃদ্ধি:
সর্বোচ্চ ২৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নিয়ে শীর্ষে রয়েছে রাসায়নিক পণ্য খাত (১৫ কোটি ৭১ লাখ ডলার)। এর মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করেছে দেশীয় ওষুধশিল্প, যা থেকে আয় এসেছে ১০ কোটি ১৭ লাখ ডলার (৩৬.৪৪% প্রবৃদ্ধি)। আন্তর্জাতিক মান ও কমপ্লায়েন্স নিশ্চিত হওয়ায় বিশ্ববাজারে বাংলাদেশি ওষুধের গ্রহণযোগ্যতা বাড়ছে।
পরিবেশবান্ধব পাটে ২৪.৮৮% উর্ধগতি:
বিশ্বব্যাপী প্লাস্টিকের বিকল্প হিসেবে পরিবেশবান্ধব পণ্যের চাহিদা বাড়ায় পাট ও পাটজাত খাত থেকে আয় এসেছে ৩৪ কোটি ৬৩ লাখ ডলার। বিজিইএ-এর মতে, আফ্রিকার বাজারসহ নতুন নতুন বাজার সম্প্রসারণ এবং কাঁচা পাট রপ্তানি বন্ধ রেখে দেশে উচ্চমূল্য সংযোজনকারী পণ্য তৈরির সিদ্ধান্ত এই প্রবৃদ্ধিতে মূল ভূমিকা রাখছে।
বিশেষায়িত বস্ত্রে ১৬.৫২% উন্নতি:
শিল্পকারখানায় ব্যবহৃত বস্ত্র, প্রযুক্তিনির্ভর ফ্যাব্রিক এবং চিকিৎসা উপকরণের মতো উচ্চমূল্যের পণ্য নিয়ে গঠিত বিশেষায়িত বস্ত্র খাত চার মাসে অর্জন করেছে ১৪ কোটি ২২ লাখ ডলার।
চামড়া ও প্রকৌশল খাতে ধারাবাহিক গতি:
চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য থেকে ৪৬ কোটি ৫০ লাখ ডলার (১২.৪৭% বৃদ্ধি) এবং লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং, বাইসাইকেল ও যন্ত্রাংশ সমৃদ্ধ প্রকৌশল খাত থেকে ২৪ কোটি ৭২ লাখ ডলার (১২.৪৪% বৃদ্ধি) আয় হয়েছে।
ইপিবির ভাইস চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী মোহাম্মদ হাসান আরিফ জানিয়েছেন, রপ্তানির এই চিত্র দেশে শিল্প বহুমুখীকরণ ও উচ্চমূল্য সংযোজিত পণ্য তৈরির সক্ষমতার ইতিবাচক বার্তা দিচ্ছে। দীর্ঘমেয়াদে এই প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে নতুন বাজার সন্ধান, নীতিগত সহায়তা প্রদান এবং প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ বাড়ানো জরুরি বলে মনে করছেন অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা।
এনএন/ ০৫ নভেম্বর ২০২৬







