গাজায় ইসরায়েলি হামলায় ১২ বছরের শিশুসহ নিহত ৪: যুদ্ধবিরতির পরও থামেনি রক্তপাত

জেরুজালেম, ০৫ নভেম্বর – অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় দখলদার ইসরায়েলের অব্যাহত গুলি ও বিমান হামলায় ১২ বছরের এক শিশুসহ চার ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) গাজার সিভিল ডিফেন্স এজেন্সি ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে এএফপি এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। যুদ্ধবিরতির চুক্তি থাকার পরও ইসরায়েলি বাহিনীর নিয়মিত এই হামলায় পুরো উপত্যকায় তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে।
গাজার বর্তমান পরিস্থিতি ও হামলার বিভীষিকা
গত বছরের অক্টোবরে হামাস ও ইসরায়েলের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হলেও কার্যত তার কোনো সম্মান রক্ষা হচ্ছে না। উভয়পক্ষ একে অপরকে চুক্তি লঙ্ঘনের জন্য দায়ী করে আসছে। বৃহস্পতিবারের এই হামলায় হতাহতের সুনির্দিষ্ট চিত্রগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
শিশুসহ আল-বুরুজি ও আল-জাওয়াদায় প্রাণহানি:
গাজার সিভিল ডিফেন্স এজেন্সির মুখপাত্র মাহমুদ বাসাল এএফপিকে জানিয়েছেন, মধ্য গাজার আল-বুরুজি শরণার্থী শিবিরে ইসরায়েলি সেনাদের গুলিতে ১২ বছর বয়সী এক নিষ্পাপ শিশু নিহত হয়েছে। এর মাত্র কয়েক কিলোমিটার দূরে আল-জাওয়াদা শহরে চালানো পৃথক ইসরায়েলি বিমান হামলায় আরও দুজন প্রাণ হারিয়েছেন। স্থানীয় আল-আকসা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে যে এই তিনজনের মরদেহ তাদের হাসপাতালে আনা হয়েছিল।
খান ইউনিসে নারী নিহত:
অন্যদিকে, গাজার দক্ষিণাঞ্চলের খান ইউনিস শহরে ইসরায়েলি সেনার গুলিতে আরও এক ফিলিস্তিনি নারী নিহত হয়েছেন। এই ঘটনার বিষয়ে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষাবাহিনী দাবি করেছে যে হামাসের সদস্যদের লক্ষ্য করেই অভিযান চালানো হয়েছিল, তবে খান ইউনিসে নারী নিহতের বিষয়টি তারা খতিয়ে দেখছে।
যুদ্ধবিরতির চুক্তি কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ:
বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পরও গত এক বছরের বেশি সময়ে ইসরায়েলি হামলায় গাজায় প্রায় ১ হাজার ৬০০ ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন। হামাস চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুললেও ইসরায়েল বরাবরের মতোই তাদের সামরিক পদক্ষেপকে ‘হামাসবিরোধী অভিযান’ বলে দাবি করে আসছে।
এনএন/ ০৫ নভেম্বর ২০২৬







