মধ্যপ্রাচ্য

গাজায় অঙ্গহারা শিশুদের বিদেশে চিকিৎসা নিতে বাধা দিচ্ছে ইসরায়েল, দাবি মানবাধিকার সংস্থার

অঙ্গহারা শিশু

গাজা,০৫ নভেম্বর-যুদ্ধবিরতি চললেও ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজায় হামলা অব্যাহত রেখেছে দখলদার ইসরায়েল। এসব হামলায় বিপুলসংখ্যক নারী ও শিশু নিহত হয়েছেন। একটি মানবাধিকার সংস্থার দাবি, ইসরায়েলি হামলায় হাত-পা হারানো শিশুদের চিকিৎসা নেওয়ার পথেও বাধা সৃষ্টি করা হচ্ছে।

‘ইউরো-মেড হিউম্যান রাইটস মনিটর’ জানিয়েছে, ইসরায়েলের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার কারণে চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার সুযোগ থেকেও বঞ্চিত হচ্ছে শিশুরা। ফলে শত শত শিশু বিদেশে গিয়ে বিশেষায়িত চিকিৎসা নিতে পারছে না। সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, ইসরায়েলি হামলায় গাজায় ১ হাজার ১৩৪টি শিশুর হাত-পা কাটা পড়েছে। কিন্তু তাদের মধ্যে খুব অল্পসংখ্যক শিশু প্রয়োজনীয় দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা পাচ্ছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে চলতি বছরের মে মাসের মধ্যে শিশু ও প্রাপ্তবয়স্ক মিলিয়ে ২ হাজার ৩০০ জন অঙ্গহানি হওয়া ব্যক্তির চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তা মূল্যায়ন করা হয়েছিল। কিন্তু তাদের মধ্যে মাত্র ৫০০ জন স্থায়ী কৃত্রিম অঙ্গ পেয়েছেন, যা মোট সংখ্যার এক-চতুর্থাংশেরও কম।

ইউরো-মেড হিউম্যান রাইটস মনিটর জানিয়েছে, বর্তমানে গাজায় সনদপ্রাপ্ত কৃত্রিম অঙ্গ ও অর্থোটিকস বিশেষজ্ঞ রয়েছেন মাত্র আটজন। জেনেভাভিত্তিক এই সংস্থার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গাজা উপত্যকায় কৃত্রিম অঙ্গ তৈরি, শরীরে স্থাপন, রক্ষণাবেক্ষণ এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সেগুলো ঠিক করার মতো পর্যাপ্ত সরঞ্জাম নেই। সংস্থাটি সতর্ক করে বলেছে, চিকিৎসা, পুনর্বাসন ও উপযুক্ত শিক্ষার সুযোগ থেকে শিশুদের এভাবে বঞ্চিত করা হলে, বর্তমানে তারা যে ক্ষতির শিকার হচ্ছে, তা ভবিষ্যতে আজীবনের দুর্ভোগে পরিণত হতে পারে।

সংস্থাটি আরও আশঙ্কা প্রকাশ করেছে, চিকিৎসার পরবর্তী ধাপগুলো না থাকা এবং শিশুদের বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাদের শরীরের মাপ অনুযায়ী কৃত্রিম অঙ্গ পরিবর্তন বা মানিয়ে নেওয়ার সুযোগ না থাকায় শারীরিক জটিলতা বাড়তে পারে। পাশাপাশি দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা এবং চলাফেরায় আরও বেশি সমস্যা দেখা দিতে পারে।

৩৬ বছর বয়সী ফিদা আহমাদ আল-শাএর মানবাধিকার সংস্থাটিকে জানিয়েছেন, ইসরায়েলি কামানের গোলা তার ১১ বছর বয়সী ছেলের কাছাকাছি আঘাত হানলে সে পঙ্গু হয়ে যায় এবং একটি হাত হারায়। ছেলেটির বিদেশে একাধিক অস্ত্রোপচার ও একটি কৃত্রিম অঙ্গ প্রয়োজন। কিন্তু সীমান্তপথগুলো বন্ধ থাকায় তাকে বিদেশে নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

সংস্থাটি ইসরায়েলের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ তুলে বলেছে, কোনো জনগোষ্ঠীকে পুরোপুরি বা আংশিকভাবে ধ্বংস করার উদ্দেশ্যে ইচ্ছাকৃতভাবে এমন জীবনযাপনের পরিস্থিতি তৈরি করা, যা তাদের শারীরিকভাবে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেয়, তা ‘জেনোসাইড কনভেনশন’ বা গণহত্যা সনদের ২ নম্বর অনুচ্ছেদে উল্লেখিত অপরাধের মধ্যে পড়ে। সংস্থাটির মতে, শিশুদের হাত-পা কেটে ফেলা এবং তাদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের পথে বাধা সৃষ্টি করাও একই কর্মকাণ্ডের অংশ।

ইউরো-মেড হিউম্যান রাইটস মনিটর আরও জানিয়েছে, ইসরায়েলি নিষেধাজ্ঞার কারণে ফিলিস্তিনিরা গাজায় কৃত্রিম অঙ্গ তৈরির প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম আমদানি করতে পারছে না। এ ছাড়া গাজায় কাজ করা এবং স্থানীয় কর্মীদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার জন্য বিশেষায়িত দলগুলোর সেখানে প্রবেশের অনুমতিও প্রয়োজন।

এস এম/ ০৫ নভেম্বর ২০২৬

Back to top button
🌐 Read in Your Language