ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ বন্ধে ট্রাম্প প্রশাসনকে চাপ দেওয়ার ঘোষণা চাক শুমারের

ওয়াশিংটন, ০৫ নভেম্বর=যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে সাফল্য পাওয়ার পর ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধ বন্ধ করার জন্য কাজ করবেন বলে জানিয়েছেন সিনেটে ডেমোক্র্যাটিক দলের নেতা চাক শুমার। তিনি বলেছেন, সরকারি অর্থায়নের ওপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণ কাজে লাগিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনকে সামরিক অভিযান বন্ধ করতে চাপ দেওয়া সম্ভব।
শুমার আরও জানান, যুদ্ধ বন্ধের এই উদ্যোগে এরই মধ্যে কয়েকজন রিপাবলিকানও তাদের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন। ওয়াশিংটন ডিসিতে ‘ডেমোক্র্যাটিক সিনেটোরিয়াল ক্যাম্পেইন কমিটি’ আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের হাতে আসার পরপরই শুমার এ মন্তব্য করলেন। এর ফলে ট্রাম্প প্রশাসনের পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে আরও সংঘাত তৈরি হতে পারে।
সংবাদ সম্মেলনে ডেমোক্র্যাটিক এই নেতা বলেন, আমেরিকান ভোটাররা চান, ডেমোক্র্যাটরা যেন ‘দেশে ও বিদেশে ট্রাম্পের তৈরি করা বিশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ করেন’। তিনি বলেন, ইরানে ঠিক কী কারণে যুদ্ধ চলছে, তা আমেরিকান জনগণ জানেন না। আমরা এই যুদ্ধের অবসান ঘটাব।
শুমার জানান, সরকারি ব্যয়ের বিষয়ে কংগ্রেসের যে ক্ষমতা রয়েছে, তা ব্যবহার করে প্রেসিডেন্টের সামরিক অভিযান চালিয়ে যাওয়ার ক্ষমতা সীমিত করা সম্ভব। তিনি একে ‘অর্থের ওপর নিয়ন্ত্রণ’ বলে উল্লেখ করেন। তার মতে, আমেরিকান জনগণের সম্মতি ছাড়াই কোনো প্রেসিডেন্ট সামরিক অভিযান শুরু করলে তা বন্ধ করার জন্য এই ক্ষমতা কাজে লাগানো যেতে পারে।
সরকারি অর্থায়নের ওপর ডেমোক্র্যাটদের বাড়তি প্রভাব আইনপ্রণেতাদের হাতে আরও একটি ক্ষমতা তুলে দিতে পারে। এর ফলে সামরিক ব্যয় এবং ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে বিতর্কে তাদের অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে।
মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা সিনেটের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাওয়ার পর ট্রাম্পের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু এবং আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার অঙ্গীকার করেছেন চাক শুমার। তিনি বলেন, এই যুদ্ধের অবসান হতেই হবে, এ নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। ট্রাম্প যখনই আমেরিকান জনগণের ইচ্ছা বা আইন উপেক্ষা করবেন, তখনই আমরা তদন্ত শুরু করব, তাকে আদালতে নিয়ে যাব এবং আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি করব। ট্রাম্পের অনুগত সিনেটের দিন শেষ হয়ে গেছে।
শুমার ট্রাম্পকে ‘দুর্নীতিপরায়ণ’ বলে মন্তব্য করেছেন। পাশাপাশি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে পদক্ষেপ নেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন। সিনেটে ডেমোক্র্যাটরা অন্তত সাতটি আসনে জয় পাওয়ার পর তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় ট্রাম্পকে ‘দুর্নীতিপরায়ণ’ এবং ‘রাজা হতে চাওয়া ব্যক্তি’ বলেও আখ্যা দেন তিনি।
শুমার বলেন, ট্রাম্প আমেরিকার ইতিহাসের সবচেয়ে দুর্নীতিপরায়ণ প্রেসিডেন্ট। একদিকে ট্রাম্প যখন শেয়ারবাজারে ‘ইনসাইডার ট্রেডিং’ বা গোপন তথ্য ব্যবহার করে অবৈধ লেনদেন করছেন, অন্যদিকে সাধারণ আমেরিকানদের সুপারমার্কেটে কেনাকাটা করতে গিয়ে খরচের হিসাব মেলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। এমন পরিস্থিতি মেনে নেওয়া যায় না।
এস এম/ ০৫ নভেম্বর ২০২৬







