যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন: রিপাবলিকানদের হারিয়ে প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের হাতে

ওয়াশিংটন, ০৪ নভেম্বর – যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে বড় ধরনের রাজনৈতিক পরিবর্তনের সাক্ষী হলো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। সর্বশেষ প্রাপ্ত ভোট গণনা ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের পূর্বাভাস অনুযায়ী, মার্কিন কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদ (হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস) এবং উচ্চকক্ষ সিনেট—উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণই নিজেদের ঝুলিতে পুরেছে ডেমোক্র্যাটিক পার্টি।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথম দুই বছর পূর্ণ হওয়ার মাথায় এই ফলাফল ট্রাম্প প্রশাসনের বাকি মেয়াদের এজেন্ডা বাস্তবায়ন ও বাজেট পাসের ক্ষেত্রে বড় ধরনের প্রশাসনিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করল।
কংগ্রেসের উভয় কক্ষে ডেমোক্র্যাটদের জয়
প্রতিনিধি পরিষদ (হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস): ২০২৩ সাল থেকে নিম্নকক্ষে রিপাবলিকানদের যে সূক্ষ্ম সংখ্যাগরিষ্ঠতা ছিল, তা হারিয়েছে জিওপি (GOP)। পেনসিলভানিয়া, নিউইয়র্ক, কলোরাডো এবং ওহাইওর মতো বেশ কয়েকটি ব্যাটলগ্রাউন্ড অঙ্গরাজ্যের আসন ছিনিয়ে নিয়ে ডেমোক্র্যাটরা প্রতিনিধি পরিষদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করেছে।
সিনেটের লড়াই: সিনেটে ডেমোক্র্যাটদের এই প্রত্যানয়ন ও নিয়ন্ত্রণ অর্জন আরও তাৎপর্যপূর্ণ। সাউথ ক্যারোলাইনা, ওহাইও, টেক্সাস এবং কানসাসের মতো রিপাবলিকান ঘাঁটিতে অভাবনীয় প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলে সিনেটের সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করেছে তারা।
ভোটারদের সিদ্ধান্তের নেপথ্যে অর্থনৈতিক চাপ
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভোটারদের এই রায়ের পেছনে মূলত কাজ করেছে অর্থনৈতিক অসন্তোষ।
১. মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয়: গত দুই বছরে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বৃদ্ধি ও উচ্চ মূল্যস্ফীতি সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে চাপ সৃষ্টি করেছে।
২. শুল্কনীতির প্রভাব: ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর শুল্কনীতি (Tariff Policy) এবং এর প্রভাবে আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় বাজারে পণ্যের দরবৃদ্ধি সাধারণ ভোটারদের পরিবর্তনের দিকে ধাবিত করেছে।
৩. প্রেসিডেন্টের ওপর অনাস্থা: মধ্যবর্তী নির্বাচনকে ঐতিহ্যগতভাবেই ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্টের কাজের ওপর এক ধরনের ‘রেফারেন্ডাম’ বা গণভোট হিসেবে দেখা হয়। ভোটাররা ব্যালটের মাধ্যমে ট্রাম্পের অর্থনৈতিক ও অভ্যন্তরীণ নীতির ওপর অনাস্থা প্রকাশ করেছেন।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রতিক্রিয়া ও ‘মিস্টার ভেটো’ হুঁশিয়ারি
নির্বাচনের এই বড় বিপর্যয়ের পর ট্রাম্প ফলাফল মেনে নিলেও পরাজয়ের দায়ভার নিজের কাঁধ থেকে সরিয়ে দিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি দাবি করেন: “আমি সরাসরি ব্যালটে ছিলাম না। আর যদি আমি ব্যালটে থাকতাম, তবে আমরা বিপুল ব্যবধানে (ল্যান্ডস্লাইড) জয়ী হতাম!”
একই সাথে কংগ্রেসে ডেমোক্র্যাট সংখ্যাগরিষ্ঠতার মুখে নিজের কৌশল স্পষ্ট করেছেন তিনি। ডেমোক্র্যাটদের আনা যেকোনো বড় বিল বা নীতি আটকে দিতে তিনি ভিটো (Veto) ক্ষমতা ব্যাপকভাবে ব্যবহার করবেন বলে হুমকি দিয়েছেন এবং প্রয়োজনে নিজেকে ‘মিস্টার ভেটো’ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করার ইঙ্গিত দিয়েছেন।
আগামী ২ বছরের ওয়াশিংটন রাজনীতি
কংগ্রেসের উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের হাতে চলে যাওয়ায় আগামী ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন পর্যন্ত ওয়াশিংটনে এক ধরনের রাজনৈতিক অচলাবস্থা (Gridlock) তৈরি হতে পারে। ডেমোক্র্যাটরা এখন ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর নানা বিষয়ে তদন্ত চালানো, বিভিন্ন প্রস্তাবিত বাজেট আটকে দেওয়া এবং নীতিগত সিদ্ধান্তে বাধা দেওয়ার মতো শক্তিশালী আইনি সুবিধা পাবে।
এনএন/ ০৪ নভেম্বর ২০২৬







