নেতানিয়াহুকে হটাতে একজোট বিরোধীরা! ইসরায়েলে রাজনৈতিক ভূমিকম্প

তেল আবিব, ০৩ নভেম্বর – ইসরায়েলের রাজনীতিতে বড় ধরনের রাজনৈতিক বিস্ফোরণ! দীর্ঘদিনের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুকে ক্ষমতা থেকে উৎখাত করতে একজোটে চূড়ান্ত পদক্ষেপে নেমেছেন দেশটির শীর্ষ বিরোধী নেতারা। নতুন নেসেটের (ইসরায়েলি পার্লামেন্ট) শপথ গ্রহণের আগেই সংসদীয় কৌশল সমন্বয় এবং জোট সরকার গঠনের চুক্তি ও নীতিগত খসড়া তৈরির সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তাঁরা।
বৈঠক শেষে যৌথ বিবৃতির মাধ্যমে বিরোধী শিবিরের এই বড় সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।
বৈঠকে ছিলেন কারা?
নেতানিয়াহুবিরোধী এই হাই-প্রোফাইল বৈঠকে এক টেবিলে বসেন ইসরায়েলের চার প্রভাবশালী বিরোধী নেতা:
- গাদি আইজেনকট (ইয়াশার দলের নেতা)
- নাফতালি বেনেট (সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বি’ইয়াচাদ দলের চেয়ারম্যান)
- ইয়ার গোলান (ডেমোক্র্যাটস দলের প্রধান)
- আভিগদর লিবারম্যান (ইসরায়েল বেইতেনু দলের নেতা)
বৈঠকের পরপরই সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেট ঘোষণা দেন, গাদি আইজেনকটকে সরকার গঠনে তাঁর দল সর্বোচ্চ সহায়তা করবে। সময় নষ্ট না করে জরুরি ভিত্তিতে পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
আইজেনকটের ৪ নীতি ও ‘জাতীয় জরুরি সরকার’
বিবৃতিতে বলা হয়, ৭ অক্টোবরের পর গঠিত বর্তমান নেতানিয়াহু সরকারকে সরিয়ে দ্রুত একটি ‘জাতীয় জরুরি সরকার’ গঠন করা হবে। এর জন্য আইজেনকটের চার নীতিকে ভিত্তি হিসেবে নেওয়া হয়েছে:
১. ইসরায়েলকে ইহুদি ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে রূপদান ও স্বীকৃতি।
২. স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রের মৌলিক মূল্যবোধ অক্ষুণ্ণ রাখা।
৩. দেশের সকল নাগরিকের জন্য বাধ্যতামূলক সামরিক বা জাতীয় সেবা নিশ্চিত করা।
৪. হামাসকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত করে গাজায় তাদের সামরিক সক্ষমতা ধ্বংস ও শাসনের পূর্ণ অবসান।
রাজনৈতিক নেতারা প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগের কাছ থেকে সরকার গঠনের প্রথম আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব যাতে আইজেনকট পান, সে বিষয়েও ঐক্যমত প্রকাশ করেন।
আসন সংখ্যার জটিল অঙ্ক: ক্ষমতায় যাওয়ার পথ কতটা সহজ?
নেতানিয়াহুর জোট সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারালেও বিরোধী শিবিরের সামনে দাঁড়িয়েছে মারাত্মক আইনি ও সামাজিক বাধা। পার্লামেন্টের আসন সংখ্যা অনুযায়ী:
- নেতানিয়াহুর জোট: ৫৩টি আসন
- বিরোধী দলসমূহ: ৪৮টি আসন
- আরব দল দুটি (সম্মিলিতভাবে): ১৯টি আসন
সরকার গঠনে ৬১টি আসনের প্রয়োজন। ফলে আরব দলগুলোর সমর্থন ছাড়া বিরোধীদের ৪৮ আসন দিয়ে এককভাবে সরকার গঠন করা কার্যত অসম্ভব। অন্যদিকে, বিরোধী দলগুলোর অধিকাংশই আরব দলগুলোকে জোটে অন্তর্ভুক্ত করতে নারাজ। ফলে নতুন সরকার গঠনের ভবিষ্যৎ এখনো অনিশ্চিত।
নেতানিয়াহু ও লিকুদ পার্টির বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ
যৌথ বিবৃতিতে বিরোধী নেতারা সরাসরি অভিযোগ তোলেন যে, নির্বাচনে হেরে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু এবং তাঁর দল লিকুদ নির্বাচনের ফলাফল ও কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটির নিরপেক্ষতা নিয়ে ‘বিপজ্জনক ও নিয়ন্ত্রণহীন অপপ্রচার’ চালাচ্ছে। গণতান্ত্রিক পরিবেশ ও প্রতিষ্ঠানের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে একযোগে লড়াইয়ের অঙ্গীকার করেছেন তাঁরা।
এনএন/ ০৩ নভেম্বর ২০২৬







