শত্রুর দৃশ্যমান-অদৃশ্য সব ঘাঁটি ইরানের নিশানায়, কঠোর সতর্কবার্তা ইরানি জেনারেলের

তেহরান,০৩ নভেম্বর-ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর চিফ অব স্টাফ এবং খাতাম আল-আনবিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টারের কমান্ডার মেজর জেনারেল আলি আবদুল্লাহি কঠোর সতর্কবার্তা দিয়ে বলেছেন, শত্রুর সব দৃশ্যমান ও অদৃশ্য ঘাঁটি এবং সম্পদ এখন ইরানি বাহিনীর নাগালের মধ্যে রয়েছে। এসব স্থাপনা ও সম্পদ তাদের সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুর আওতায় রয়েছে বলেও জানান তিনি।
বিশ্ব সাম্রাজ্যবাদবিরোধী জাতীয় দিবস উপলক্ষে মঙ্গলবার প্রকাশিত এক বিশেষ বাণীতে তিনি এই হুঁশিয়ারি দেন।
বাণীতে জেনারেল আবদুল্লাহি বর্তমান ইরানকে বিশ্বের চতুর্থ উদীয়মান শক্তির কেন্দ্র হিসেবে বর্ণনা করেন। বিশেষ করে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথভাবে চাপিয়ে দেওয়া ৪০ দিনব্যাপী যুদ্ধের পর ইরানের এই শক্তিশালী অবস্থান আরও সুদৃঢ় হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি বলেন, ১৩ই আবান দিনটি ইরানি জাতির কাছে শুধু ক্যালেন্ডারের একটি তারিখ নয়, বরং বিশ্ব সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে দীর্ঘ সংগ্রামের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক। ইরানের ইতিহাসে এই দিনটি তিনটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা স্মরণ করিয়ে দেয়। এগুলো হলো ১৯৬৪ সালে ইমাম খোমেনির নির্বাসন, ১৯৭৯ সালে বিপ্লবী শিক্ষার্থীদের ওপর গণহত্যা এবং একই বছর মার্কিন গুপ্তচরবৃত্তির কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত মার্কিন দূতাবাস দখল। ১৯৫৩ সালের অভ্যুত্থান এবং অপারেশন এজাক্সের ধারাবাহিকতায় ঘটে যাওয়া এসব ঐতিহাসিক ঘটনার কারণে যুক্তরাষ্ট্র ইরানি জাতির কাছে চিরকাল ঋণী হয়ে থাকবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের বর্তমান বহুমুখী বা হাইব্রিড সংঘাত শুধু সামরিক ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং এটি বিশ্ব ক্ষমতার সমীকরণে বড় পরিবর্তন আনছে। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে ইরান এখন বিশ্বের চতুর্থ শক্তির কেন্দ্র হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। ফলে একমেরুকেন্দ্রিক বিশ্বব্যবস্থা নতুন এই বাস্তবতা মেনে নিতে বাধ্য হচ্ছে। এর মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে, আঞ্চলিক শক্তি ও দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তার ছত্রচ্ছায়া ছাড়াই নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সম্পূর্ণ সক্ষম।
ইরান কখনোই যুদ্ধ চায় না উল্লেখ করে জেনারেল আবদুল্লাহি বলেন, সময়ের বাস্তবতা ও প্রয়োজন অনুযায়ী দেশের সামরিক নীতিতে পরিবর্তন আনা হয়েছে। এখন সামরিক নীতি শুধু ‘রক্ষণাত্মক’ অবস্থানে সীমাবদ্ধ নেই, বরং তা ‘আক্রমণাত্মক উদ্যোগ’-এর দিকে এগিয়েছে। একইভাবে ‘সংকট ব্যবস্থাপনা’ থেকে ‘শৃঙ্খলা নির্মাণ’-এর দিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া নেপাল ও গাজা উপত্যকাসহ সব রণাঙ্গনে যুদ্ধের স্থায়ী অবসান ঘটিয়ে দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপরও তিনি গুরুত্ব দেন।
এস এম/ ০৩ নভেম্বর ২০২৬







